শিক্ষা একটি জাতির অগ্রগতির মূল ভিত্তি , আর শিক্ষক সেই ভিত্তি নির্মাণের প্রধান কারিগর। অথচ শিক্ষকদেরই যদি শিক্ষা প্রশাসনের ভুল, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে বারবার ভোগান্তির শিকার হতে হয়, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
শিক্ষা অফিসের দায়িত্ব শিক্ষকদের সহযোগিতা করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সহজ করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রশাসনিক ভুল, অস্পষ্ট নির্দেশনা, তথ্যের অসংগতি ও সমন্বয়হীনতার কারণে শিক্ষকদের যদি অযথা দাপ্তরিক জটিলতায় পড়তে হয়, তবে প্রশ্ন ওঠে, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় কেন শিক্ষকদের বহন করতে হবে?
সরকারি দপ্তরে ভুল হতে পারে। কিন্তু সেই ভুল সংশোধনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কোনো নথিতে অসংগতি থাকলে, ভুল নির্দেশনা দেওয়া হলে কিংবা তথ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি দেখা দিলে তা সংশোধন করা প্রশাসনের কর্তব্য। নির্দোষ শিক্ষকের ওপর সেই ভুলের দায় চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।
একজন শিক্ষক প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও নৈতিকতা বিকাশে কাজ করেন। তাঁর সময়ের মূল্য রয়েছে। অথচ প্রশাসনিক ভুলের কারণে তাঁকে বারবার অফিসে যাওয়া, একই কাগজপত্র জমা দেওয়া কিংবা অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদানে বাধ্য করা হলে তাঁর মূল দায়িত্ব ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর।
শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রতিটি নির্দেশনা হতে হবে স্পষ্ট, যুক্তিসংগত ও বিধিসম্মত। কোনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত প্রতিকার দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায় স্বীকার করতে হবে।
শিক্ষকদের দাপ্তরিক ভোগান্তি কমাতে ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা, সহজ যোগাযোগব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমায় অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই তথ্য বারবার চাওয়া এবং পরস্পরবিরোধী নির্দেশনা দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, শিক্ষা অফিস কোনো ক্ষমতা প্রদর্শনের কেন্দ্র নয়, এটি শিক্ষকদের সেবায় নিয়োজিত একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতার মনোভাব ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ হোক। প্রশাসনিক ভুলের দায় শিক্ষকের ওপর চাপানো বন্ধ হোক। শিক্ষা প্রশাসন হোক স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও মানবিক। কারণ শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করা মানেই শিক্ষার মর্যাদা রক্ষা করা, আর শিক্ষার মর্যাদা রক্ষা করা মানেই জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা।











