শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনে অভিভাবক

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন | শনিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ দেশের বিদ্যমান সমাজ কাঠামো ও আর্থ সামাজিক অবক্ষয় এর বাইরে কেউ নন। তাঁদের নৈতিকতা, মনোবল কিংবা সম্পর্ক দেশের বিরাজমান পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সমাজ আজ কলুষিত ফলে অবক্ষয়ের উন্মেষ ঘটেছে। আর অবক্ষয় বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন: ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। পেশাগত উদাসীনতা, সামাজিক বৈষম্য, আর্থিক অসচ্ছলতা, সঠিক মূল্যায়নের অভাব, স্বজনপ্রীতিই নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারণ। এ অবক্ষয়ের হাত থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের প্রতি অভিভাবকগণ নির্লোভ ভুমিকা রাখতে পারেন। অভিভাবকগণ তাঁদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তুলতে, নীতি নৈতিকতা সম্পর্কে এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভয় ভীতি সম্পর্কে পারিবারিকভাবে বুঝাতে হবে। এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করবে তখন অভিভাবকগণ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করবেন। শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষকদের অভিভাবকগণ যথাযথ সম্মান করবেন এবং শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করবেন। সর্বদা যে কোন অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করবেন। শিক্ষার্থীদের সামনে কোন অবস্থাতেই শিক্ষক সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কোন শিক্ষকের ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে তা প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অবহিত করতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজ সন্তানের অবশ্যই খোঁজ খবর রাখতে হবে যাতে শিক্ষার্থীর সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। কোন সহপাঠীদের সাথে তাঁর সন্তান মেলামেশা করে, আড্ডা দেয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায় কিংবা খেলাধুলা করে এসব সরাসরি অভিভাবক হিসেবে নজরদারি করা প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো খাবার খেয়ে যায় কিনা তা লক্ষ্য রাখতে হবে কেননা সঠিক পরিমাণে খাবার না খেয়ে গেলে একেতো পুষ্টিহীনতায় ভুগবে, স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে যাবে, অন্যদিকে মন মেজাজ খিটখিটে স্বভাবের হয়ে গেলে ক্লাসে মনযোগ দিতে পারবে না। সোস্যাল মিডিয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, পরিমিত ও প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনে অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করতে হবে। নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম এর পাশাপাশি সহ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিতে হবে যাতে তারা শারীরিকভাবে ফিট থাকে, মনোজগতে পজিটিভ ধারণা দিতে সহায়তা করতে পারে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী সম্পর্ক উন্নয়নে মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষককে বাড়িতে দাওয়াত দিতে পারে। শিক্ষক শিক্ষার্থীর প্রতি আরো অধিক যত্নশীল হওয়ার প্রেরণা সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনে সহায়ক হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম মেডিকেলে ওয়ার্ড বয়ের দৌরাত্ম্য : চাই প্রতিকার
পরবর্তী নিবন্ধসততা ও দক্ষতার সমন্বয়েই সর্বোচ্চ কল্যাণ