বিদেশে বসে এআই দিয়ে ভিডিও করে বাংলাদেশে সরকার পতন করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট বাজারে পতিত স্বৈরাচার, নিষিদ্ধ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ফরহাদাবাদ, ধলই, মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, আমি হাটহাজারীতে কোনো প্রতিহিংসা চাই না। আমি চাই না কোনো দরিদ্র ঘরের সন্তান শুধু শুধু হয়রানির শিকার হোক। তাই এসব অপরাধী নিষিদ্ধদের সাথে আপনারা ওঠাবসা বন্ধ করেন। আপনারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসেন। আমরা সাহায্য করব। এই সুপ্ত, গুপ্ত, পলাতক, পরাজিতদের সাথে হেঁটে কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে অগ্রযাত্রা সেটি ইনশাআল্লাহ মহান রাব্বুল আলামিন ছাড়া আর কেউ রুখতে পারবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কিছু দিন ধরে দেখছি, যারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে তাদের বক্তব্যের সাথে এ নির্বাচনে এবং একাত্তর সালে পরাজিতদের বক্তব্য এক মনে হচ্ছে। একদল বলছে ডিসেম্বরে নাকি ফেরত আসবে, আরেক দল বলছে ডিসেম্বরে নাকি সরকার চলে যাবে। এত সোজা না। আমাদের নেতা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমপি এবং উনার নেতৃত্বাধীন দুই–তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য আমি–ডামির ভোটে নির্বাচিত হয়নি, রাতের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার আদায় করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। যদি আমাদের আমি–ডামির সংসদ সদস্য মনে করেন, রাতের ভোটের জাল ভোটের সংসদ সদস্য মনে করেন তাহলে বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। আমরা জনতার কাতারে ছিলাম, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছি বটে কিন্তু এখনো জনগণের কাতারেই আছি। রাজপথে আগেও ছিলাম এখনো আছি। এই রাজপথে আমরা থাকব।
তিনি বলেন, ইদানিং বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠন ভোর চারটার সময় কিছু খুবই হতদরিদ্র মানুষের সন্তানদের দিয়ে কিছু মিছিলের ভিডিও করছে। তারা জয় বলে এক জায়গায়, বাংলা বলে আরেক জায়গায়। কিছু অসহায় দরিদ্র ছেলেদের ব্যবহার করে তাদের পরিবারের জীবন বিপন্ন করছেন। যদি আসলেই রাজনীতিবিদ হয়ে থাকেন তবে দয়া করে গরিব মানুষের ছেলেদের ব্যবহার করবেন না। আমরা ১৭ বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। ভারতে বসে থাকবেন, আমেরিকা লন্ডনে বসে বসে এখানে গরিব ছেলেদের প্রাণে মারার ব্যবস্থা করবেন এটা কী ঠিক হচ্ছে, এটা কী গণমানুষের রাজনীতি? পরিশুদ্ধ হন, বিচারের মুখোমুখি হন। আমরা অনেক মামলার আসামি ছিলাম। অনেকবার কারান্তরীণ হয়েছি। জামিন নিয়েছে আবার জেল গেট থেকে নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, একে তো নিষিদ্ধ হয়েছেন, কর্মীদের ফেলে বউ বাচ্চা নিয়ে বিদেশ পালিয়েছেন। এখন আমার হাটহাজারীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে ছেলেগুলোর জীবন বিপন্ন করছে। এটা করবেন না। এটার বিচার যেমন রাব্বুল আলামিন করবে, এই বাংলাদেশের মানুষও বিচার করবে, এই কর্মীগুলোই আপনাদের বিচার করবে। সাহস থাকলে যদি নির্দোষ মনে করেন বাংলাদেশে ফেরত আসেন, আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করেন, বিচারের সম্মুখীন হন। তাহলেই বুঝবো মুরোদ আছে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি, ২০২৪ এর পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপচেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনগণ পাঁচ বছরের জন্য সুযোগ দিয়েছে দেশের সেবা করার। এই পাঁচ বছর পরই জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে আমরা থাকব কি থাকব না। সমাবেশ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।












