চট্টগ্রাম–৩ সন্দ্বীপ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাকে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গুলশান–২ এর একটি বাড়ি থেকে সোমবার রাত দেড়টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ.ফ.ম আনোয়ার হোসেন খান জানিয়েছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুলশান–২ এলাকার ৪৩ নম্বর রোডের ২৯ নম্বরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানোর কথা বলেছে ডিবি। গ্রেপ্তারের পর মিতাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজের।
৬ দিনের রিমান্ড : মাহফুজুর রহমান মিতাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তার গাড়িচালককে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা এ তথ্য দিয়েছেন।
গুলশান–২ এলাকার একটি বাড়ি থেকে সোমবার রাতে মিতার সাথে তার গাড়িচালক গোলাম মাওলা সেলিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল মিতা ও তার গাড়িচালককে ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. মাসুদুর রহমান তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের গ্রেপ্তার, রাষ্ট্রবিরোধী পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের হেফাজতে থাকা হাতবোমার উৎসসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।
মিতা ও তার গাড়িচালকের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তাদের জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, তারা ঘটনার সাথে জড়িত নন। মাহফুজুর রহমান মিতা একজন সাবেক সংসদ সদস্য। সেবামূলক কাজ করেছেন। তিনি অসুস্থ, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ১০ দিনের রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার (মিতা) সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে তিনটি মামলা রয়েছে। মামলা মোকাবিলা না করে ঢাকায় আত্মগোপন করেন। সম্প্রতি ঢাকায় মিছিল, বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক এ সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।
পরে আদালত মিতাকে ছয় দিন এবং তার গাড়িচালক সেলিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়। শুনানিকালে মিতার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ কয়েকজন স্বজন এজলাস কক্ষে ছিলেন। এছাড়া তার সমর্থকরাও আদালতে হাজির হন।
মামলায় বলা হয়েছে, গেল ১৮ জুন সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নিবাস মজুমদারসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৫–৪০ জন নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ রাষ্ট্রবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড চালান।
মিতা চট্টগ্রাম–৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দশম, একাদশ এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে সংসদে গিয়েছিলেন। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর নিজ এলাকা সন্দ্বীপে একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি করা হয় তাকে।












