আনোয়ারা–বাঁশখালীর সাঙ্গু নদীর ওপর নির্মিত তৈলারদ্বীপ সেতু থেকে ইজারা আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সেতুটির টোল আদায় সংক্রান্ত দরপত্রের কার্যক্রমেও স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের করা উচ্চ আদালতে রিট আবেদনের ওপর গত ১৫ সেপ্টেম্বর রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিটু চাকমা জানান, এ ব্যাপারে অফিসিয়ালি কোনো আদেশ পাইনি। তবে রিট আবেদনকারীর পাঠানো উচ্চ আদালতের আদেশের একটি কপি পেয়ে তৈলার দ্বীপ সেতু থেকে টোল আদায় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে টেন্ডার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে তৈলারদ্বীপ সেতুতে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন শ্রমিক মালিকেরা এ সেতুতে চলাচলকারী যানবাহন থেকে কোনো ধরনের ইজারা না নেওয়ার জন্য মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। তারই ফলশ্রুতিতে গত কয়েক বছর এ সেতুর ইজারা আদায় কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ের জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬–২৭ থেকে ২০২৯–৩০ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরের জন্য সেতুটিতে টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই অবস্থায় তৈলারদ্বীপ সেতুর ইজারা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ইজারা আদায়ে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে।
রিট আবেদনকারী মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, তৈলারদ্বীপ সেতু দিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম, পটিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। গত কয়েক বছর এ সেতুর টোল আদায় বন্ধ থাকার পর নতুন করে সেতু ইজারার টেন্ডার প্রক্রিয়ার কারনে পরিবহন মালিক–শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় উচ্চ আদালতে রিট আবেদনের পর আদালত টোল আদায়ে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে।











