অনুমোদন ছাড়াই চসিকের রোলার ও পেভার মেশিন রাউজানে ভাড়া

নেপথ্যে দুই প্রকৌশলী, ঘটনার সত্যতা পেল তদন্ত কমিটি

মোরশেদ তালুকদার | মঙ্গলবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ

বিধি বহির্ভূতভাবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য রাউজান উপজেলায় ভাড়া দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) যান্ত্রিক শাখার ভারী যন্ত্রপাতিটায়ার রোলার ও পেভার মেশিন। এমনকি শুরুতে টায়ার রোলার ও পেভার মেশিন দুটির ভাড়ার টাকা আদায় করে জমা দেওয়া হয়নি চসিকের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে। পরে অবশ্য বিষয়টি জানাজানি হলে টাকা জমা করা হয়। ভাড়া দেয়ার নেপথ্যে রয়েছেন চসিকের দুই প্রকৌশলী। এ ঘটনায় গঠিত চসিকের তদন্ত কমিটি যার সত্যতা পেয়েছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, বিধি বহির্ভূতভাবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ব্যক্তিগত কাজে রাউজানের ডাবুয়া ইউনিয়নে ব্যবহারের জন্য চসিকের টায়ার রোলার ও পেভার মেশিন ভাড়া দেয়ার অভিযোগ তদন্তে গত ২২ এপ্রিল তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। দীর্ঘ প্রায় ৫ মাস তদন্ত শেষে গত সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি আজাদীকে নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। জানা গেছে, চসিকের আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদকে আহবায়ক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যাকে সদস্য সচিবকে করে গঠিত কমিটির সদস্য করা হয় একজন স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটকে।

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল টায়ার রোলার ও পেভার মেশিন দুটি রাউজানে ভাড়ায় নেয়া হয়। অথচ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে অনুমোদন ফাইলে ছিল না।

এ বিষয়ে পৃথক তিনটি মতামত দেয় কমিটি। এতে বলা হয়চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আনু মিয়ার নির্দেশেই পেভার মেশিন এবং টায়ার রোলার ভাড়া দেওয়া হয়। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক অনুমোদনের আওতার বাইরে গিয়ে রাউজানের ডাবুয়া এলাকায় রোড রোলার এবং পেভার মেশিন প্রেরণ করা হয়েছে। রোড রোলার এবং পেভার মেশিনের ভাড়া গ্রহণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

উল্লেখ্য, শাহীন উল চৌধুরীকে গত জুলাই মাসে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে বদলি করা হয়।

ভাড়া নিয়ে আছে প্রশ্ন : টায়ার রোলার ও পেভার মেশিন ভাড়া গ্রহণকারী গাজী মো: শওকত তদন্ত কমিটিকে জানান, ‘টায়ার রোলার এবং পেভার মেশিন ভাড়া নেওয়ার জন্য তিনি ৮ এপ্রিল নির্বাহী প্রকৌশলী আনু মিয়ার বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে লিখিত অনুমোদন না দিলেও ৩৩ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়। ১৪ এপ্রিল তিনি টায়ার রোলার ও পেভার মেশিন ভাড়া নেন। কিন্তু ঐ সময় তাকে একাউন্ট নাম্বার দিতে না পারায় কাজের আগে তিনি টাকা জমা দিতে পারেন নি। তাকে আনু মিয়া জানায়– ‘যান্ত্রিক শাখার যন্ত্রপাতি, মেশিন ও যান ভাড়ার জন্য পৃথক একাউন্ট ওপেন করতে দেরি হচ্ছে’। পরে একাউন্ট ওপেন হওয়ার পর পেঅর্ডার জমা করেন।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি উল্লেখ করেন, ‘টায়ার রোলার ও পেভার মেশিন দুটি ভাড়ার টাকা আদায় করে জমা দেওয়া হয়নি। মূলত গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২২ এপ্রিল টাকা জমা করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ভাড়া নেওয়া ব্যক্তি গাজী শওকতের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলী আনু মিয়া একাউন্ট ওপেন হতে দেরী হচ্ছে বলার কারণে তিনি পূর্বে টাকা জমা করতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি টাকা জমা করেছেন। অথচ হিসাব বিভাগের তথ্য মতে, শওকতএর টাকা জমা করা ব্যাংক হিসাবটি খোলা হয়েছে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ ব্যাংক একাউন্ট ওপেন হতে দেরি হওয়ার কারণে টাকা জমা দিতে দেরি হয়েছে বক্তব্য সত্য নয়।

এ বিষয়ে আনু মিয়া তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেনসিটি কর্পোরেশনের টায়ার রোলার ও পেভার মেশিন ভাড়া দেওয়ার লিখিত কোন নীতিমালা নেই। তবে রাজস্ব আদায়ের জন্য মেশিন গুলো ভাড়া দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। তার জানা মতে, এই সংক্রান্ত কোন রেজিস্টার নেই তবে এসফল্ট প্ল্যান্টের রেজিস্টার রয়েছে। রাউজান ডাবুয়া ইউনিয়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাজের জন্য ঠিকাদার গাজী শওকত সাগরিকা প্ল্যান্ট থেকে ৭৫ টন মিক্সার নিয়েছিলেন। টায়ার রোলার ও পেভার মেশিনের ভাড়া বাবদ ৩৩ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। টায়ার রোলার ও পেভার মেশিন ভাড়া নির্ধারণ করা হয় এলজিইডি এর নীতিমালা অনুযায়ী। মেশিন ভাড়ার ক্ষেত্রে সচরাচর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন। টায়ার রোলার ও পেভার মেশিন ভাড়া আদায় সাপেক্ষে রাউজান ডাবুয়ায় প্রেরণের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহীন উল ইসলাম তাকে নির্দেশ দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী, হাজার ফুট বালু ও কংকর জব্দ করল চসিক
পরবর্তী নিবন্ধপ্রতিবেশী দেশে পাচার রোধ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে তেলের মূল্য সমন্বয়