চট্টগ্রাম আদালতে চুরির মামলার বাদীর গলায় বাইন্ডিং সুই দিয়ে আঘাত করার ঘটনা ঘটেছে। এতে নুরুল কবির নামের ওই ব্যক্তি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে কোর্টহিলের নতুন আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় ৩য় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দরজার সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে পেশায় ব্যবসায়ী নুরুল কবিরকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে ঘটনা ঘটিয়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় আঘাতকারী।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পাঁচলাইশ থানার একটি চুরির মামলায় ধার্য ছিল আজকে (রোববার)। এই মামলায় কারাগারে আটক আসামি রবিউল হাসানের জামিন শুনানি ছিল। এ জন্য বাদী আদালতে আসেন। কিন্তু তিনি এজলাসে ঢোকার আগ মুহূর্তে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি তার হাতে থাকা একটি মোটা সুই দিয়ে গলায় টান দিয়ে আঘাত করে। পুলিশ দ্রুত আহত নুরুল কবিরকে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলেও জানান উপকমিশনার। আহত নুরুল কবিরের স্ত্রী রুনা আক্তার জানান, আমার স্বামী আদালত কক্ষে প্রবেশ করছিল। তখন দরজার কাছে আসামি ইলিয়াস হোসেন, জয়নাল আবেদীন, এমরান, আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন ভিড়ের মধ্যে এসে তার গলায় মোটা সুই (বাইন্ডিং সুই) ঢুকিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, ভুক্তভোগীরা এখনও থানায় মামলা করেননি। পুলিশ আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
আদালত সূত্র জানায়, পাঁচলাইশ থানার হাদুমাঝি পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী নূরুল কবিরের বাড়িতে ২০২৪ সালে একটি চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা তখন নগদ ১৪ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন নুরুল কবির। পরে ইলিয়াস হোসেন আসামি জামিনে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে জানান, টাকা না দিলে ডিশ ও ওয়াইফাই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১ জুন ইলিয়াস হোসেনের নেতৃত্বে নুরুল কবিরকে তুলে নিয়ে একটি রিকশার গ্যারেজে আটকে রেখে দুই দিনের মধ্যে ৫ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। এই ঘটনায় থানায় মামলা করা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুল কবিরের বাসার সামনে এসে তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর করা হয়। মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিয়ে ডিশ–ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ আগস্ট নুরুল কবিরের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটলে তিনি এমরান, ফয়সাল, ইলিয়াস, রবিউল ও জালালের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন।
আদালত সূত্র আরো জানায়, মামলা দায়ের পরবর্তী পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩০ আগস্ট রবিউল হাসানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।












