ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চারপাশ যেন ময়লা–আবর্জনার এক বিশাল ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ড্রেন ও নালাগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে ময়লাযুক্ত কাদা পানি, চিকিৎসাবর্জ্য ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত সরঞ্জামাদি। একদিকে হাসপাতালের ভেতরে চলছে রোগীদের চিকিৎসা, অন্যদিকে বাইরে নোংরা পরিবেশের কারণে ছড়াচ্ছে নানাবিধ রোগব্যাধি, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ডেঙ্গু আতঙ্ক তৈরি করেছে।
গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সরোয়ার আলমগীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে পরিদর্শনে গেলে হাসপাতালের এমন বেহাল দশা ও নোংরা চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ হন। হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশের নালাগুলোর ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় ড্রেনে জমে থাকা ময়লা–আবর্জনা ও এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর মতো পরিবেশ দেখে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. তৌহিদুল আলমকে প্রশ্ন করেন– “গত তিন মাসেও কি এসব ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে? এখানে ময়লাগুলো কি রেখে দিয়েছেন হাসপাতালের ওপরের বেডগুলো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী দিয়ে পূর্ণ করার জন্য? এখানে কি আপনারা ডেঙ্গুর চাষ করতেছেন?”
পরে তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সাথে কথা বলে তাদের সেবার মান, অবকাঠামোগত সমস্যা ও পরিবেশ নিয়ে নানা অভিযোগ শোনেন। পরিদর্শন শেষে এমপি সরোয়ার আলমগীর হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বসেন। সেখানে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ অবিলম্বে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করা, নালাগুলোর প্রতিবন্ধকতা দূর করে দ্রুত পানি অপসারণের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহির আজম চৌধুরী, উত্তর জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহীন, মুনসুর আলম চৌধুরী, নাজিরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা নাছির উদ্দীন, ফরিদুল আলম, মোজাহারুল ইকবাল লাভলু প্রমুখ।










