দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে

চবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিশির মনির

চবি প্রতিনিধি | রবিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, ব্যক্তিগত বা দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা যার সঙ্গেই কাজ করি না কেন, মূল লক্ষ্য হতে হবে দেশের কল্যাণ। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, চাকসুর সাবেক ভিপি ও চবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জসিমউদদীন সরকার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও চবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ আবু মূসা, চাকসুর জিএস ও চবি ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইদ বিন হাবীব এবং চবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ।

এডভোকেট শিশির মনির তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি গড়ে উঠেছে তিনটি স্তম্ভের ওপর শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং আইন বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি এবং স্পিকার এই তিন অঙ্গের শীর্ষে রয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। কিন্তু প্রশাসনিক পদ বা এই পিরামিড কাঠামো যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যদি সমাজে ন্যায়নীতি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা না করা যায়, তবে জনগণ কখনোই আইনের সুফল পাবে না। তিনি বলেন, মনে রাখবেন, কোনো বড় পদে বসলেই মানুষ সম্মানিত হয়ে যায় না; বরং ব্যক্তির যোগ্যতা, নীতি ও কাজের মাধ্যমে সেই পদ সম্মানিত হয়। আমাদের শ্রেণিকক্ষেই আমরা দেখিসব শিক্ষকের বড় ডিগ্রি থাকলেও সবাই শিক্ষার্থীদের হৃদয় স্পর্শ করতে পারেন না। শিক্ষকতা কিংবা নেতৃত্ব সবক্ষেত্রেই প্রকৃত মান ও আন্তরিকতাই আসল মূল্যায়ন তৈরি করে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ তরুণদের প্রতি আমার একটাই বার্তা, এই পৃথিবী প্রতিভাবানদের। আপনারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে সুপ্ত রাখবেন না। যদি আপনারা আপনাদের মেধাকে বিকশিত না করেন, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের এই বাংলাদেশ। আর যদি আপনারা মেধা ও নিষ্ঠা নিয়ে এগিয়ে আসেন, তবে এই দেশ নিশ্চিতভাবেই এক নতুন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিশা পাবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে এই প্রিয় জন্মভূমিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধিপত্যবাদের বলয় থেকে মুক্ত করা যায় না সে জাতি কখনো উন্নত হতে পারে না। শতভাগ আবাসন নিশ্চিত না করে আর কোনো নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করা উচিত নয়।

একটি হলের সিটের জন্য কেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নেতার পেছনে ঘুরতে হবে? ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর কোনো ‘আদু ভাই’ বা নির্বাচিত প্রতিনিধিরও হলে থাকার অধিকার নেই; অনার্সমাস্টার্স শেষ হওয়া মাত্রই হল ছাড়তে হবে। নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আমরা ক্যাম্পাসগুলোকে পুনর্গঠন করতে চাই এবং গণরুম ও গেস্টরুমের অপসংস্কৃতি ভেঙে দিয়ে একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।

দুই পর্বে আয়োজিত এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব সকাল ৯টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। এতে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিন সায়েন্স ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। পরে দুপুর ২টায় শুরু হয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এতে কলা ও মানববিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান, আইন ও শিক্ষা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রায় ৩ হাজারের মত শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেওয়া হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচবিতে ২য় ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
পরবর্তী নিবন্ধ১২তম বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন আর্কিটেকচারের যাত্রা শুরু