খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতভর কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে মাইনী নদীসহ পাহাড়ি ছড়া ও খালের পানি বাড়তে থাকে। ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডের পর মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালীর বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
দীঘিনালা–মেরুং সড়কের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লংগদুর সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা দেশীয় বোটে করে চলাচল করছেন। যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। কোথাও কোথাও বসতঘরেও পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে আমনের ক্ষেত ও গ্রীষ্মকালীন সবজির মাঠ।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লংগদুগামী শান্তি পরিবহনের নৈশকোচগুলো মেরুংয়ের হেডকোয়ার্টার এলাকায় আটকা পড়েছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় বাসের যাত্রীরা দেশীয় বোটে করে ডুবে যাওয়া অংশ পার হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, গতকাল রাতে তিনি ঢাকা থেকে রওনা দেন। মেরুংয়ে এসে সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সঙ্গে থাকা মালামাল নিয়ে এখন দেশীয় বোটে যেতে হচ্ছে। বাসের সব যাত্রীর একই অবস্থা।
মেরুংয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ রোকন মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে একবার এলাকা ডুবেছিল। শনিবার (গতকাল) আবার ডুবেছে। গত দুই মাসে মেরুংয়ে তিন দফায় পানি উঠেছে। এতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ফসলের জমিও ডুবে গেছে।
মধ্যবোয়ালখালী এলাকার কৃষক সুবিমল চাকমা বলেন, গত সপ্তাহের পর শনিবার ভোর থেকে আবার আমার আমনের ক্ষেত ডুবে গেছে। গত সোমবার চারা রোপণের কাজ শেষ করেছিলাম। জুলাই মাসে একবার এবং চলতি মাসে দুবার ক্ষেত পানিতে ডুবল।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা বলেন, শুক্রবার রাতে কয়েক দফায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। সকালে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল পারভেজ বলেন, পাবলাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে সাতটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। নতুন বরাদ্দ উপজেলায় পাওয়া যাবে। এখনো তা দেওয়া হয়নি, শিগগিরই দেওয়া হবে। মেরুংয়ে সড়ক ডুবে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।








