এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসের বিরুদ্ধে আদালতে প্রবাসীর মামলা

চাঁদা দাবি, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

লোহাগাড়া উপজেলায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর, দোকানের মালামাল ও টাকা লুট এবং হুমকির অভিযোগে চট্টগ্রাম১৫ আসনের এমপি জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক প্রবাসী। গত রোববার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে আমির হোসেন নামে ওই প্রবাসী নালিশি মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারক মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমির হোসেন লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা।

মামলার আসামিরা হলেন আরমান উদ্দিন, আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আদিল, আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আদনান কবির জিলান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার আরজিতে বলা হয়, লোহাগাড়ায় আজিজ কমপ্লেক্স নামের ৪ তলা একটি ভবন রয়েছে আমির হোসেনের। ২০০৬২০০৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে ভাড়া ঘর রয়েছে। কিছুদিন ধরে আসামিরা বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে উক্ত মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়।

আরজিতে বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল রাত দুইটার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর কাছে আবারও চাঁদা দাবি করেন। বাদী টাকা দিতে পারবেন না জানালে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওইসময় দোকান থেকে ১৭টি স্টিলের আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা। এছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিল, যার ভেতরে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল, তাও নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেয় আসামিরা। এরপর ভবনের ওপরের তলার ভাড়াটিয়াদের কাছে গিয়ে আসমিরা জানায়, ভবিষ্যতে যেন বাসাভাড়ার টাকা তাদের কাছে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে বাদী বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন উল্লেখ করে বলা হয়, দেশে ফিরে বাদী আসামিদের সাথে বসেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকাল নয়টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে আসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান। পরবর্তীতে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে বলেনতার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে। চাঁদা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে। একপর্যায়ে আসামিরা বাদীকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি ও লাথি মারেন বলেও মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাতকানিয়া থানার সাবেক দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
পরবর্তী নিবন্ধঝগড়ার পর স্ত্রী গেলেন বাপের বাড়ি, ঘরে স্বামীর আত্মহত্যা