দীর্ঘদিনেও বান্দরবানে ধসে পড়া দুটি সেতু সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে কুহালং ও নোয়াপতং দুটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার। প্রতিদিনই মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে বিধ্বস্ত বিপজ্জনক সেতু হয়ে চলাচল করছে ভুক্তভোগীরা।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানায়, কয়েকবছর আগে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে কয়েকবছর আগে কুহালং ও নোয়াপতং ইউনিয়নে দুটি সেতু ধসে পড়ে। সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কার বা পুনর্নিমাণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অন্য সেতুটিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে সেতু দুটি। কুহালং ইউনিয়নের সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকেই এলাকাবাসী অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে চলাচল করছেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে, রোগীদের হাসপাতালে নিতে এবং কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। একই অবস্থা নোয়াপতং ইউনিয়নের সেতুটিরও। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ধসে পড়ে থাকায় কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। বিকল্প সড়ক পথ না থাকায় ধ্বসে যাওয়া সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও মেলেনি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ, সেই সঙ্গে বাড়ছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা। নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে প্রায় দশ হাজারো বেশী মানুষের বসবাস। সেখানে যাতায়াতের একমাত্র সড়কপথ এটি। প্রতিদিন ধ্বসে পড়া সেতু দিয়ে হাজারো মানুষ চলাচল করছেন। কেউ অফিসের কর্মস্থলে আবার শিক্ষার্থীরা স্কুলে অথবা কৃষিতে ফসলি পন্যের বিক্রি করতে শহরে ছুটে যান। বর্ষার মৌসুমে সেই ব্রিজটি পিচ্ছিলে কাদামাখা থাকে। এতে চলাচলের বিপত্তি সৃষ্টি হয় সেখানকার মানুষদের।
স্থানীয় ভুক্তভোগী হ্লাইয়াং মারমা ও লাগ্যচিং বলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের অবস্থিত খালের উপর ব্রিজটি দিয়ে ছয় গ্রামে পাঁচ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। ব্রিজটি পুরোপুরি ধসে পড়াতে বর্ষাকালে ভয়ংকর হয়ে উঠে খালটি। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
প্রতিদিন এই ভাঙা ব্রিজ দিয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সব শ্রেনীর মানুষ চলাচল করে।
কুহালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মংপু মারমা ও নোয়াপতং ইউনিয়নের চনুমং মারমা জানান, ব্রিজটি ধসে যাওয়ার পর দুর্ভোগ বেড়েছে এলাকার মানুষের। ব্রিজটি সংস্কারে এলজিইডি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালেও কোন উদ্যোগ নেয়নি। তাই এলাকাবাসী নতুন সেতু নির্মাণ বা ধসে পড়া সেতুগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।











