ইরানে বড় সামরিক হামলা পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করলেন ট্রাম্প

| সোমবার , ২৭ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত ইরানে হামলা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে, মূলত যুদ্ধ আরও তীব্র হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কাছে ইতোমধ্যেই সীমিত পরিমাণে থাকা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে আরও কমে যেতে পারেএমন আশঙ্কা থেকেই হামলা বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত। খবর বিডিনিউজের।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানে বড় সামরিক হামলা আবার শুরু করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো নিয়ে হিসাবনিকাশ করা হচ্ছে তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হল, প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুত। ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টারা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ আরও তীব্র হলে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ইরানের হামলার ঝুঁকিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বিচ্ছিন্নতা দেখা যেতে পারে।

তাছাড়া, বিশ্ব অর্থনীতিতে সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও শরণার্থী সংকটও আরও তীব্র হতে পারে। আলোচনার বিষয়ে অবগত দুইজন বলেছেন, গত শুক্রবার ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার উর্ধ্বতন সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করার পরই ইরান যুদ্ধ নিয়ে কৌশল পরিবর্তন করেন। কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলোচনায় পেন্টাগনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত কমে আসার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলে তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়। আহত হয় আরও কয়েকজন। কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ডান কেইন ব্যক্তিগতভাবে একটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তা হল, ইরানের বিরুদ্ধে ফের বড় সামরিক অভিযান শুরু করলে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর কাছে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাবে। তবে প্রেসিডেন্টকে জেনারেল কেইন কি পরামর্শ দিয়েছেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তার মুখপাত্র। হোয়াইট হাউজের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, প্রেসিডেন্ট সব সময়ই বলে আসছেন যে, তিনি কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন। তবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে গেলে তিনি সব ধরনের বিকল্প উপায়ের কথা মাথায় রাখবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নতুন উত্তেজনা, সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা
পরবর্তী নিবন্ধটি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে পুনরায় শীর্ষে ভারত