নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজাদী ডেস্ক | রবিবার , ১৯ জুলাই, ২০২৬ at ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ

বেঁচে থাকার মতো আনন্দ আর কিছুই নেই। কত অপূর্ব দৃশ্য চারিদিকে। মন দিয়ে আমরা কখনো তা দেখি না। যখন সময় শেষ হয়ে যায়, তখনি শুধু হাহাকারে হৃদয় পূর্ণ হয়।’

এ কথা বলেছিলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। আজ রোববার তাঁর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন। ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশে নানা অনুষ্ঠানে তার ভক্তশুভার্থীরা কামনা করেছিলেন তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। কিন্তু মানুষের সেই প্রার্থনা পূরণ হয়নি। তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। হুমায়ূন নেই, কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের জনপ্রিয়তম লেখক। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, চলচ্চিত্র পরিচালনা, গান রচনা থেকে শিল্পসাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে একটি ছোট উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু। এই উপন্যাসটির নাম ‘নন্দিত নরকে’। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উপন্যাসটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭২ সালে সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। আহমদ শরীফ এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দিলে বাংলাদেশের সাহিত্যমোদী মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দুই শতাধিক গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস লিখেছেন। তাঁর রচনার প্রধান কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলো গল্পের সমৃদ্ধি। এছাড়া তিনি অনায়াসে ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে অতিবাস্তব ঘটনাবলীর অবতারণা করেন, যাকে জাদুবাস্তবতা হিসেবে গণ্য করা যায়। তাঁর গল্প ও উপন্যাস সংলাপপ্রধান। বর্ণনা পরিমিত এবং সামান্য পরিসরে কয়েকটি মাত্র বাক্যের মাধ্যমে চরিত্র চিত্রণের প্রতিভা রয়েছে তাঁর। রচনায় একটি শুভবোধ ক্রিয়াশীল থাকে। চরিত্রের বয়ানে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট নন। লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেছিলেন, হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইরানের হামলায় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত, একজন নিখোঁজ
পরবর্তী নিবন্ধইটবোঝাই ট্রাকের ভারে ভেঙে গেল সেতুর পাটাতন