ইটবোঝাই ট্রাকের ভারে ভেঙে গেল সেতুর পাটাতন

রানিরহাট-কাউখালী সড়কের সাহেবনগর এলাকা

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ১৯ জুলাই, ২০২৬ at ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানিরহাটকাউখালী সড়কের সাহেবনগর এলাকায় অতিরিক্ত ওজনের ইটবোঝাই ট্রাক পারাপারের সময় একটি বেইলি সেতুর পাটাতন ভেঙে চাকা আটকে গেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ে যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে। পরে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিকল্প উপায়ে যাত্রীরা গন্তব্যে যান। গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আজ (রোববার) সেতুটি ঠিক করে যানবাহন চলাচল উপযোগী করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের মাঝামাঝি সাহেবনগর ও সেগুনবাগান এলাকায় অবস্থিত এই বেইলি সেতুটির ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫ টন। কিন্তু এদিন দুপুরে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে একটি ইটের ট্রাক সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছালে বিকট শব্দে স্টিলের কাঠামোর একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে ট্রাকটি সেতুর ওপর আটকে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই সড়কটির যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। রানিরহাটকাউখালী সড়কটি রাঙ্গুনিয়া ও পার্শ্ববর্তী কাউখালী উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়ায় দুই প্রান্তেই দীর্ঘ ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রাত ৯টার দিকে জানতে চাইলে স্থানীয় মো. ইকবাল হোসেন জানান, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি এখনো ব্রিজটিতে আটকে আছে। তবে ট্রাক থেকে ইটগুলো নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এই পথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা হাসান তালুকদার বলেন, গাড়ির চাকার অবস্থা দেখলেই বোঝা যায় কী পরিমাণ লোড ছিল। এত ভারী গাড়ি যদি এই দুর্বল বেইলি ব্রিজের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে, তাহলে এই ব্রিজ কীভাবে ট্রাকের ভার বহন করবে? চালকেরা লোড একটু কমিয়ে নিলে কী ক্ষতি হতো? কোনো কারণে যদি একটা প্রাণ এখানে ঝরে যেত, হাজার কোটি টাকা দিয়েও তো সেই জীবন আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো না। তিনি আরও বলেন, এই ব্রিজটি নিয়ে আমি এর আগেও ফেসবুক লাইভসহ নানাভাবে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু বরাবরই বিষয়টি অবহেলিত রয়ে গেছে এবং অবশেষে আজ বড় ধরনের বিপদটি ঘটেই গেল।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী রনেন চাকমা জানান, স্টিলের এই বেইলি সেতুটি মাত্র এক সপ্তাহ আগেই মেরামত করা হয়েছিল। সেতু দিয়ে ৫ টনের বেশি ওজনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও চালকেরা নিয়মিত সেই নির্দেশনা অমান্য করছেন। আইন অমান্য করে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি আরও জানান, খবর পাওয়ার পরপরই সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি মেরামত এবং আটকে থাকা ট্রাকটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রোববারের মধ্যে সেতুটি পুনরায় যান চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া টাইগার লাইটনিং শুরু হচ্ছে আজ