স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যা মোকাবেলায় পৃথিবীর কোথাও মহৌষধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস প্রাকৃতিক বাস্তবতা। এই কারণে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় শক্তিশালী স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য স্ল্যুইচগেট স্থাপন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের স্ল্যুইচগেটগুলোর দায়িত্ব এখন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছে থাকবে না। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা, যাতে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজন হলে যথাসময়ে স্ল্যুইচগেট খুলে দেওয়া যায়।
গতকাল শনিবার সকালে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন আয়োজিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীন ২০ পরিবারের মাঝে নতুন বাড়ি তৈরিতে প্রয়োজনীয় নির্মাণ এবং গৃহস্থালি সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনগণ–এই নীতিকে সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও গবাদিপশু পালনকারীদের জন্যও সরকার সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যাদের বীজতলা, চারা কিংবা কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল–কলেজ, মাদ্রাসা, সড়কসহ সব ধরনের অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার সব সময় দেশের মানুষের পাশে থাকবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার জনবান্ধব ও দারিদ্রবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয় এবং সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়। আমরা ক্ষমতবান নই, আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত। যেকোনো দৈব–দুর্বিপাকে সরকার জনগণের পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
এদিকে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ তৎপরতা চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া উজানটিয়া সোনালী বাজারের স্ল্যুইচগেট পরিদর্শন এবং বন্যায় মাতামুহুরী নদী ও বিভিন্ন ছড়ার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
ভাঙা বেড়িবাঁধ পরিদর্শন : বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পেকুয়া উপজেলার ভাঙা বেড়িবাঁধ ও দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সকালে তিনি উপজেলার মেহেরনামা ও বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি ভাঙা বেড়িবাঁধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন।












