নগরীর হালিশহর থেকে সিনিয়র এক আইনজীবীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্পেশাল ব্রাঞ্চের লোক পরিচয়ে খারাপ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে অপহরণ করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ের পর বিপর্যস্ত অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হালিশহর বি ব্লক ৪ নম্বর লেন থেকে আইনজীবী আনোয়ারুল হকের অপহরণের ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন তার মেয়ের জামাই আইনজীবী হারুন অর রশিদ। তিনি আজাদীকে বলেন, অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চাওয়ার পর আমার শালা হালিশহর থানায় গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। তবে পরদিন শুক্রবার ভোরে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর নয়াবাজার মোড়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে বাসা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য ৮০ টাকা রিকশা ভাড়া দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমার শ্বশুরের বয়স ৮৫ বছর। তিনি চট্টগ্রাম আদালতে ৪০–৫০ বছর ধরে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। কারো সাথে তার শত্রুতা নেই। জমি নিয়েও ঝামেলা নেই। কোর্টেও তেমন একটা যান না। মাঝে মাঝে যান। প্রায় সময় বাসায় থাকেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর তিনি বাসায় ছিলেন। এ সময় তার কাছে একটি ফোন আসে। এরপর নিচে নেমে দোকানের দিকে গেলে একটি মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। কিছুক্ষণ পর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে টাকা চাইলে আমরা অপারগতা প্রকাশ করি এবং থানায় যোগাযোগ করি। থানা পুলিশ উক্ত ফোন নম্বর ট্র্যাক করে দেখে, নম্বরটির অবস্থান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকা। তখন আমরা জিডি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সার্ভার ডিসটার্ব বলে জিডি নেওয়া হয়নি। এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা আমার শালার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে এবং ভোরের দিকে আমার শ্বশুরকে নয়াবাজার মোড়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অপহরণকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা স্পেশাল ব্রাঞ্চের লোক পরিচয় দিয়েছিল। তবে আমাদের মনে হচ্ছে টাকার জন্য অন্য কেউ এ কাজটি করেছে। এলাকার কারো ইন্ধনও থাকতে পারে। বাসা থেকে বের হয়ে দীর্ঘ সময় পরও না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আমার শ্বশুরকে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অপহরণকারীরা তার ফোনটি বন্ধ করে দিয়েছিল। আনোয়ারুল হককে মারধর করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তেমন মারধর করা হয়নি। চোখের নিচে হালকা আঘাত পেয়েছে সম্ভবত।
অপহরণকারীরা বন–পাউরুটি খেতে দিয়েছিল জানিয়ে ভিকটিম আনোয়ারুল হক জানান, তারা স্পেশাল ব্রাঞ্চের লোক পরিচয় দেয়। আমি নাকি খারাপ কাজে জড়িত। তবে তাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। আইনের সহায়তা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব না। নিরাপদে বাসায় ফিরতে পেরেছি, সেটিই যথেষ্ট।
এদিকে আনোয়ারুল হকের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন। সংগঠনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান আজাদীকে বলেন, অপহরণকারীরা আনোয়ারুল হককে কিডন্যাপ করে মুক্তিপণের বিনিময়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার পর হালিশহর থানা তার স্বজনদের অভিযোগ বা ডায়েরি গ্রহণ করেনি। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন আজাদীকে বলেন, আইনজীবী অপহরণের ঘটনাটি উদ্বেগজনক। একজন সিনিয়র আইনজীবীর সাথে যদি এমন হয়, সাধারণের সাথে কী হতে পারে ভাবা যায়! আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দিন আজাদীকে বলেন, জিডি নিতে আমি বলে দিয়েছিলাম। কিন্তু সার্ভার ডিসটার্ব করায় সেটি হয়নি। পরদিন তাদের আবার আসার কথা ছিল, কিন্তু কেউ আসেননি। তিনি বলেন, মৌখিকভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর মুক্তিপণের জন্য যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল সেটি ট্র্যাক করেছিলাম। তখন বুঝতে পারি ফোন নম্বরটির অবস্থান চৌদ্দগ্রাম। আমরা তো যোগাযোগ করছিলাম। সকালে শুনতে পাই আনোয়ারুল হককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উনার পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












