টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইনের ষোলশহর–জান আলী হাট সেকশনের মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ রেললাইন গত তিনদিন ধরে কোথাও ১৯ ইঞ্চি (দেড় ফুট), কোথাও ১৬ আবার কোথাও ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে আছে।
রেললাইনের উপর থেকে পানি না নামার কারণে গতকালও তৃতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনগুলো চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলাচল করছে।
রেললাইনে জমে থাকা পানি কমপক্ষে তিন ইঞ্চিতে না নামলে ট্রেনের ইঞ্জিন চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রেলের পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা।
গতকালও রেলওয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সরেজমিনে রেললাইনের ওই অংশের পানির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন।
গতকাল সকালে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইনের ওই অংশ দেড় ফুটের বেশি পানিতে ডুবে ছিল। বিকাল ৫ টায় রেললাইনের উপর ১৫ ইঞ্চি পানি ছিল বলে জানান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ।
তিনি জানান, রেললাইনের উপর ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত পানি থাকলে ট্রেন চালানো যায়। কিন্তু চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেল লাইনের ষোলশহর–জান আলী হাট সেকশনের মধ্যবর্তী সুন্নিয়া মাদ্রাসা অংশ থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকা এখনো পানিতে ডুবে আছে। এ কারণে আজকেও (গতকাল বৃহস্পতিবার) সারাদিন চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে, দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা চট্টগ্রাম ষোলশহরে আটকে থাকার পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১১টায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে রেল কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটের প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেসেরও যাত্রা বাতিল করা হয়। এরপর থেকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে।
টানা ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের কারণে চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার রেলপথ গত মঙ্গলবার দেড় ফুট পানিতে ডুবে ছিল। গত বুধবারও হাঁটু সমান পানির নিচে ডুবে ছিল চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথের ওই অংশ।
বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শনে আসেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ।
তিনি বুধবার সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে রেলের বিশেষ গ্যাংকারে করে রেল প্রতিমন্ত্রী ডুবে যাওয়া রেললাইনের ষোলশহর–জান আলী হাট সেকশনের মধ্যবর্তী শমসেরপাড়া এলাকা সরেজমিনে পরির্দশন করেন। এসময় তিনি রেললাইনে মাত্রাতিরিক্ত পানির কারণে ট্রেন ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন সার্ভিস সাময়িক বন্ধ থাকার ঘোষণা দেন।












