বান্দরবান জেলার বাইশারী ইউনিয়নের কাগজিখোলা–খুঁটাখালী এলাকায় কাঁধে করে একটি সিএনজি টেক্সি পারাপারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই টেক্সিতে কোনো গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ রোগী ছিলেন না, মূলত সেতুর দাবিকে পাকাপোক্ত করতে এই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। গত বুধবার বাইশারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগজিখোলা–খুঁটাখালী ছড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের মতে, টানা বৃষ্টিতে ছড়ার পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে বাধ্য হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁধে তুলে একটি সিএনজিচালিত টেক্সি ছড়া পার করেন। বর্ষা মৌসুম এলেই এই ছড়ায় একই ধরনের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী সংযোগ সীমান্তে খুঁটাখালী খাল অবস্থিত। সেখানে একটি সেতুর অভাব দীর্ঘদিনের। ভুক্তভোগী লোকজন সেতু না থাকায় কাঁধে করে সিএনজিটি পারাপার করেছেন। তবে ভাইরাল হওয়া তথ্যের বিপরীতে ওই সিএনজিতে কোনো গর্ভবতী নারী ছিলেন না। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কাগজিখোলা–খুঁটাখালী ছড়ায় একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সদস্য ও বাইশারী ইউনিয়নের সম্ভাব্য বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সেতু না থাকায় সরকারের দৃষ্টিগোচর করতেই কাঁধে করে সিএনজি পারাপারের ছবি ভিডিওটি ভাইরাল করা হয়েছে। সিএনজিতে কোনো রোগী ছিল না। খুঁটাখালী ছড়ার সেতুটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে একটি সেতু হলে দুটি উপজেলার মধ্যে সংযোগ সড়ক তৈরি হবে। লামা–নাইক্ষ্যংছড়ি দুটি উপজেলার যোগাযোগের দূরত্বও কমবে। বিষয়টি বর্তমান স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি এবং এর সত্যতা যাচাই করছি। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমানার সঙ্গে কঙবাজার জেলার ঈদগড় ও রামু উপজেলার সংযোগ রয়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এলাকাগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই ভিডিওটি ঠিক কোন উপজেলার, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।











