নতুন করে যুদ্ধ শুরুর দ্বিতীয় দিনে কুয়েত, বাহরাইন এবং কাতারে হামলার পর এবার জর্ডানকে নিশানা করেছে ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড ও কস্ট্রোল সেন্টার এবং জর্ডানে শত্রুপক্ষের আল–আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ১০ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রেভল্যুশনারি গার্ড এও বলেছে যে, ‘সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী আবার আগ্রাসন চালালে আমাদের ভারি বোমা হামলা থেকে ওই অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিগুলো আর নিরাপদ রাখা যাবে না।’ অপরদিকে ইরানের প্রায় ১০০টি লক্ষ্যে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টিকম)। তাতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। গত দু’দিনে এই নিয়ে ইরানের প্রায় ২০০টি এলাকায় হামলা চালালো আমেরিকা।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জর্ডানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বৃহস্পতিবার ইরান থেকে দেশের ভূখন্ডের দিকে আসা ৮ টি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়েছে এবং ভূপাতিত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বা অন্য কোনও ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি।’ জর্ডান কাউকেই তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে দেবে না বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জর্ডনের রাজধানী আম্মানে বার বার সাইরেন বেজেছে। ইরান থেকে ছুটে আসা ক্ষেপণাস্ত্র আকাশসীমা লঙ্ঘন করাতেই এই সাইরেন বাজানো হয় বলে জানান জর্ডানের সরকারি মুখপাত্র মোহাম্মদ আল মোমানি। জর্ডানের আল আজরাকে দেশটির বিমান ঘাঁটি আছে, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, বেলজিয়াম এবং ফরাসি বাহিনী ইতোপূর্বে ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসাবে সামরিক তৎপরতা চালাত। জর্ডান জোর দিয়ে বলে আসছে তাদের ভূখণ্ডে কোনও বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নেই। তবে সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক চুক্তির অধীনে জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সীমিত আকারে কয়েকটি দেশের বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে বুধবার রাতে সেন্টিকমের তরফে সমাজমাধ্যমের পোস্টে ইরানে হামলার খবর জানানো হয়েছিল। এঙ হ্যান্ডলে তারা লেখে, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ইরানের এই আস্ফালন অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল আমেরিকার সেনাবাহিনী।’
ইরান জানিয়েছে, মার্কিন বিমানহানায় তেহরান থেকে মাশহাদে যাওয়ার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যাত্রিবাহী ট্রেন চলাচল স্থগিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিয়ারদের বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব রুটটি চালুর চেষ্টা করছে তারা। পথে আটকে পড়া যাত্রীদের মাশহাদে পৌঁছানোর জন্য নেওয়া হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা।












