নগরে গতকাল বৃহস্পতিবারও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে শহরের বেশ কিছু নিচু এলাকায় জলজট তৈরি হয়। এতে ভোগান্তি হয়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে পথচারী, কর্মস্থলমুখী লোকজন, জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ ও শ্রমজীবী মানুষের সীমাহীন ভোগান্তি হয়েছে বেশি। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সাথে ছিল রিকশা ও সিএনজি চালকদের বাড়তি ভাড়া আদায়ের মহোৎসব।
জনা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নগরের আবহাওয়া অফিসের পতেঙ্গা পর্যবেক্ষণাগারে ২২৩ মিলিমিটার ও আমবাগান পর্যবেক্ষণাগারে ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
উল্লেখ্য, ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে সেটাকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত বলা হয়। ওই হিসেবে গতকাল অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরের চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, নয়াহাট, ওয়াজেদিয়া, পুরাতন চান্দগাঁও, সিএন্ডবি, বাহির সিগন্যাল, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বড়দীঘির পাড়, পতেঙ্গা, হালিশহর, মাইজপাড়া, নাজিরপাড়ায় জলজট হয়েছে।
জানা গেছে, বৃষ্টি থামার পর বেশিরভাগ এলাকার পানি নেমে যায়। তবে পতেঙ্গা এলাকায় গত দুইদিন ধরে জলজটের অবস্থা খারাপ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শাহেদ। তিনি আজাদীকে বলেন, মাইজাপাড়া, নাজিরপাড়া ও রাজারপুকুর পাড়ে পানি গত দুই দিনেও নামেনি।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাইফুল্লাহ আজাদীকে বলেন, আমার অফিস চেরাগী পাহাড়। সাধারণত বহাদ্দারহাট থেকে টেম্পোতে করে আন্দরকিল্লা আসি। সেখান থেকে হেঁটে অফিস যাই। আজ (গতকাল বৃহষ্পতিবার) সন্ধ্যা ৭টায় কাপাসগোলা থেকে তেলিপট্টি মোড় পর্যন্ত পানিতে ডুবে ছিল। তাই আমাদের বহনকারী টেম্পো কাপাসগোলা এসে ঘুরিয়ে দেয়। পরে শাহ আমানতমুখী সড়ক দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোড হয়ে আন্দরকিল্লা আসি। এতে তিনবার গাড়ি পরিবর্তন হয়, গুণতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, গতকাল বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে অস্থায়ী দমকা হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ অধিকাংশ জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমি ধসের আশংকা রয়েছে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত ও চট্টগ্রাম নদী বন্দরের জন্য ১নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েেেছ। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া জানান, সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তরপশ্চিম মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিরাজমান রয়েছে। এটি ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে (আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে) গুরুত্বহীন হয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ রাজস্থান, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।












