জুম’আর খুতবা

কুরআন ও হাদীসের আলোকে আহ্‌লে বায়তে রাসূলের (দ.) মর্যাদা

অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি | শুক্রবার , ১০ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র কুরআনের আলোকে

আহ্‌লে বায়তের প্রতি ভালোবাসা:

মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআন মাজীদে আহ্‌লে বায়তে রাসূলের সুমহান মর্যাদা প্রসঙ্গে এরশাদ করেছেন, “আপনি বলুন! আমি সেটার জন্য তোমাদের নিকট থেকে কোন প্রতিদান চাইনা কিন্তু চাই নিকটাত্মীয়তার ভালোবাসা। (সূরা: ৪২ আশ্‌শূরা, পারা২৫, আয়াত২৩)- বর্ণিত আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর প্রিয় হাবীবকে এরশাদ করেন, হে মাহবুব! আপনি বলুন, আমি দ্বীনের প্রচার, রিসালতের সুমহান গুরু দায়িত্ব পালনে যে ত্যাগ ও কুরবানী তথা কাফির, মুশরিকদের বহুমূখী জুলুম নির্যাতন চক্রান্ত ষড়যন্ত্র সহ্য করেছি। সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে তোমাদের প্রতি দ্বীনের দাওয়াত পৌছেয়েছি। তোমাদের থেকে এর প্রতিদান স্বরূপ কোন বিনিময় চাইনা, যেমনিভাবে আমার পূর্ববতী নবীগণ কোন প্রকার প্রতিদান চাননি, কেবল মাত্র আমার আহ্‌লে বায়তের প্রতি ভালোবাসা চাই।

হাদীস শরীফের আলোকে আহ্‌লে বায়ত: আহ্‌লে বায়তে রাসূলের সম্মান, মর্যাদা ও তাঁদের পবিত্রতার বর্ণনায় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য হাদীস শরীফ বর্ণিত হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কুরআন মজীদে “কুললা আসআলুকুম আলায়হি আযরান…..” এ আয়াত অবতীর্ণ হল, সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার নিকটাত্মীয় কারা? যাদেরকে ভালোবাসা আমাদের উপর ওয়াজিব করা হয়েছে! প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, আলী, ফাতেমা ও তাঁদের দুই সন্তান। (তাবরানী শরীফ হাদীস নং ২৬৪১)

আল্লাহ তা’য়ালা আহলে বায়তে রাসূলকে সম্পূর্ণরূপে পূত:পবিত্র করেছেন। তিনি তাঁদের থেকে কলুষতা ও অপবিত্রতা দূরীভূত করেছেন, তাঁরা সকলেই মর্যাদামন্ডিত পূত: পবিত্র ও সম্মানিত। তাঁদের জীবনাদর্শ মানব জাতির জন্য অনুসরণীয় অনুকরণীয়।

হযরত হাসান ও হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা’র মর্যাদা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস। আল্লাহকে ভালোবাসার কারণে আমাকে ভালোবাস, আমার প্রতি ভালোবাসার কারণে আমার আহ্‌লে বায়তকে ভালোবাস। (তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ৩৭৮৯)

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীকরিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, হাসান এবং হোসাইন বেহেস্তবাসী যুবকদের সর্দার। (তিরমিযী শরীফ হাদীস নং ৩৭৬৮)

বেহেস্তী দুটি ফুল: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, “নিংসন্দেহে হাসান ও হোসাইন (রা.) দুনিয়াতে আমার বেহেস্তী দুটি ফুল। (মিশকাত শরীফ, পৃ: ৫৭০)

ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (রা.)’র জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা:

হযরত বারা ইবনে আযেব (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত হাসান ও হোসাইনের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আল্লাহ! আমি তাদেরকে ভালোবাসি তুমিও তাদেরকে ভালোবাস। (তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ৩৭৮২)

হযরত হাসান ও হযরত হোসাইন (রা.)’র প্রতি বিদ্বেষের পরিণাম জাহান্নাম: হযরত সালমান ফারসী (রা.) বর্ণনা করেন, আমি নবীজিকে বলতে শুনেছি ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন আমার পুত্র। যে ব্যক্তি হাসান ও হোসাইন (রা.) কে ভালবাসল সে আমাকে ভালবাসল, যে আমাকে ভালবাসল, আল্লাহ তাকে ভালবাসল, আল্লাহ যাকে ভালবাসেন, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্ধেষ পোষণ করল, তার উপর আল্লাহর গযব বর্ষিত হবে। যার উপর আল্লাহ অসুন্তষ্ট হবেন তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। (আলমুসতাদরাক লিল হাকেম, হাদীস নং ৪৭৭৬)

উম্মুল মুমেনীন উম্মে সালমা (রা.)’র স্বপ্ন: হযরত উম্মুল ফযল বিনতে হারিছ (হযরত আব্বাস ইবেন আবদুল মুত্তালিব’র স্ত্রী) থেকে বর্ণিত, একদা তিনি নবীজির নিকট বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি আজ রাতে একটি আশ্চর্য স্বপ্ন দেখলাম, হুযুর জিজ্ঞেস করলেন কি স্বপ্ন? তিনি বললেন আমি দেখেছি আপনার শরীর মুবারকের এক টুকরো মাংস কর্তিত হয়ে আমার কোলে এসে পড়ল, হু্লযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আপনি তো ভাল স্বপ্ন দেখছেন এর ব্যাখ্যায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুসংবাদ দিলেন, যে ফাতেমার পুত্র সন্তান ভূমিষ্ট হবে, এবং তা প্রথমে আপনার কোলে যাবে। অতএব যখন ফাতেমার গর্ভ হতে হযরত ইমাম হোসাইনের জন্ম হলো তা আমার কোলে দেয়া হলো, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফরমান বাস্তবায়িত হলো, এরপর আমি একদিন রসূলুল্লাহর দরবারে উপস্থিত হলাম ইমাম হোসাইন কে আমার কোল থেকে রসূলুল্লাহর কোলে দিলাম হঠাৎ দেখলাম হুযুর করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র দু’চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে, জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার উপর উৎসর্গ হোক, আপনার কী হল? নবীজি এরশাদ করলেন, আামকে জিব্রাইল (🙂 সবেমাত্র সংবাদ দিলেন, আমার উম্মত আমার এই সন্তনকে শহীদ করবে। আরয করলাম এই সন্তান কে? বললেন, হ্যাঁ এবং জিব্রাইল আমীন শাহাদাতের স্থানের লাল মাটি এনে আমাকে দেখালেন। (ইমাম বায়হাকী, দালায়েলুল নবুওয়াত, মিশকাত শরীফ, পৃ: ৫৭২)

নবীজির বংশধারা কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে: হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি আমার বংশ ও সম্পর্ক ব্যতীত কিয়ামত দিবসে অন্যসব বংশ ও সম্পর্ক নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১০৬৯)

ইমাম হোসাইনের শাহাদাত প্রসঙ্গে নবীজির ভবিষ্যৎ বাণী: জান্নাতী যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (রা.) একদিন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে খেলছিলেন, এমতাবস্থায় হযরত জিব্রাইল আমীন (.) এসে বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ নিশ্চয় আপনার উম্মতের একটি দল আপনার এ পুত্রকে কারবালার ময়দানে শহীদ করবে। জিব্রাইল (🙂 নবীজিকে সে স্থানের কিছু মাটি প্রদান করেন নবীজি মাটি গুলোর ঘ্রাণ নিয়ে বললেন, এ মাটি গুলো থেকে বিপদ ও মুসিবতের ঘ্রাণ অনুভব করছি। তখন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম হোসাইনকে বুকে জড়িয়ে কেঁদে দিলেন। হযরত উম্মে সালমাকে সম্বোধন করে বললেন, “হে উম্মে সালমা! যখন এ মাটি রক্ত হয়ে যাবে তবে তুমি বুঝে নিবে যে আমার পুত্র হোসাইন শহীদ হয়েছেন।” (আল মুজামুল কবীর, :১০৮)

ইমাম হোসাইনের শাহাদাত মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা ও ঐতিহ্যের প্রতীক: হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও আহ্‌লে বায়তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাহাদাতের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে সত্য ও মিথ্যার মানদণ্ড নিরূপন হলো, চিরকাল সততা, ন্যায়পরায়ণত ও প্রিয় রাসূলের পবিত্র দ্বীনের হেফাজত ও সংরক্ষণে ইমাম হোসাইন (রা.)’র ভূমিকা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস অক্ষয় হয়ে থাকবে। পক্ষান্তরে অভিশপ্ত, কলংকিত, অন্যায়, জুলুম, নির্যাতনের মহানায়ক হিসেবে কুখ্যাত নরাধম পাষণ্ড ইয়াজিদ চিরদিন মুসলিম সমাজে ঘৃণার পাত্র হয়ে থাকবে। মহাপ্রলয় অবধি ইমাম হোসাইন (রা.) ও আহ্‌লে বায়তে রাসূলের চর্চা ও হোসাইনী আদর্শের পতাকা কিয়ামত পর্যন্ত সমুন্নত থাকবে। ইয়াজিদ ও ইয়াজিদিয়াতের প্রতি মুসলিম মিল্লাতের ক্ষোভ ঘৃণা ও নিন্দাবাদ অব্যাহত থাকবে। দ্বীনের বিরুদ্ধে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ইয়াজিদী চরিত্র। ধৈর্য, শান্তি, শৃঙ্খলা হোসাইনী আদর্শের অপর নাম। হোসাইনী আদর্শ দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সম্মান, মর্যাদা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ইয়াজিদিয়াত অজ্ঞতা, বর্বরতা, বিদ্বেষ ও অন্ধকারের প্রতীক।

আহ্‌লে বায়তকে ভালোবাসা ইসলামের নিদর্শন: হযরত ইবনে নাজ্জার স্বীয় তারিখ এহযরত হাসান ইবনে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, প্রত্যেক বস্তুর ভিত্তি আছে। ইসলামের মূলভিত্তি হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত সাহাবাগণের প্রতি ভালবাসা ও আহ্‌লে বায়তে রাসূলের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা। (আদ্‌দুররুল মনসুর, জালালুদ্দীন সুয়ুতী ৬:)

আহ্‌লে বায়তের প্রতি বিদ্বেষ করলে জান্নাত নসীব হবে না: সাবধান যে ব্যক্তি আহলে বায়তের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে মৃত্যু বরণ করবে সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার কপালে লিখা থাকবে। এ ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত এবং কাফের হয়ে মৃত্যু বরণ করবে যে ব্যক্তি আহ্‌লে বায়তের প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে মৃত্যু বরণ করবে সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবেনা। আর যে ব্যক্তি আহ্‌লে বায়তের প্রতি ভালবাসা নিয়ে মৃত্যু বরণ করবে সে ক্ষমা প্রাপ্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করবে। যে ব্যক্তি আহ্‌লে বায়তের ভালোবাসা নিয়ে মারা যাবে সে তাওবা করে মৃত্যু বরণ করতে পারবে। (তাফসীরে কুরতুবী, খন্ড ১৩, পৃ:২৩)

হে আল্লাহ আমাদের অন্তরে তোমার ভালোবাসা, তোমার প্রিয়নবীর প্রতি ভালোবাসা ও আহ্‌লে বায়তের () প্রতি ভালোবাসা দান কর।

লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসাএ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী), বন্দর, চট্টগ্রাম; খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।

[ইসলাম সম্পর্কিত পাঠকের প্রশ্নাবলি ও নানা জিজ্ঞাসার জবাব দিচ্ছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি। আগ্রহীদের বিভাগের নাম উল্লেখ করে নিচের ইমেলে প্রশ্ন পাঠাতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

Email : azadieditorial@gmail.com

ইকরামুল হোসাইন

নজুমিয়া হাট, বুড়িশ্চর, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র প্রতি সম্পর্কিত স্থান, বস্তু, কদম শরীফের পদচিহ্নের প্রতি সম্মান ও আদব রক্ষা করার গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে দালিলিক ভাবে জানালে কৃতার্থ হব।

উত্তর: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বহু জ্ঞানী পন্ডিত ইসলামী মনীষীগণ পাথরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র পদচিহ্ন সম্পর্কে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইমাম কাযী আয়ায তাঁর লিখিত “আশ শিফা” কিতাবে দ্বিতীয় খন্ডে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র প্রতি আদব ও তাযীম এর বর্ণনা প্রসঙ্গে বিশদ আলোচনা করেছেন। যেমন তাঁর চুল মোবারক, নালাইন শরীফ, তাঁর প্রতি সম্পর্কিত প্রকৃত নিদর্শনের প্রতি আদব ও সম্মান প্রদর্শন, চুম্বন করা এবং বরকত অর্জন করার বৈধতা হাদীসের আলোকে প্রমাণ করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম নবীজির চুল মুবারক, পোশাক, ব্যবহৃত বস্তু, অযুর পানি ও অন্যান্য নিদর্শন দ্বারা বরকত গ্রহণ করেছেন মর্মে হাদীস ও ফিকহর অসংখ্য কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। (ফাতওয়ায়ে রযভিয়া, কিতাবুল হজ্ব ও যিয়ারত অধ্যায় দ্রষ্টব্য।)

ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ুতি” নবীজির নিদর্শন সংরক্ষণ ও বরকত গ্রহণ বৈধ বলেছেন।(খাসায়েসে কুবরা ফাতহুল বারী, খন্ড: ১০/৩৫৩)- পুণ্যার্ত বান্দাদের নিদর্শন দ্বারা বরকত গ্রহণের বৈধতা আছে, নবীজির নিদর্শন সর্বোত্তম। (শরহে সহিহ মুসলিম ১৫/৮৪)- আহমদ তাইমুর পাশা “আছারুন নবভীয়্যাহ” গ্রন্থে পাথরের উপর কদম মোবারকের নিদর্শন শিরোনামে স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন। আহমদ তাইমুর পাশা মৃত্যু ১৯৩০ খ্রি. মিশরীয় ইতিহাসবিদ ইসলামী ঐতিহ্য বিষয়ক গবেষক। হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফকিহ আল্লামা আবদুল গণি নাবলুসি, মৃত্যু ১১৪৩ হি.) তিনি ২০০ অধিক গ্রন্থের প্রণেতা, “আল্লামা নাবলুসি” তাঁর সফর বৃত্তন্তে মসজিদে স্থাপিত নবীজির কদম মুবাকের পদচিহ্ন কদম শরীফ জিয়ারতের কথা উল্লেখ করেছেন। (সংক্ষেপিত)

পূর্ববর্তী নিবন্ধলোভ-দ্বেষ-মোহ ধ্বংস করার ব্রত নিয়ে প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ, ৪ জনের মৃত্যু