সীতাকুণ্ডে আসলাম অনুসারীদের মহাসড়ক অবরোধ

৪০ কিমি যানজট, দুর্ভোগ আড়াই ঘণ্টা পর যান চলাচল শুরু

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | বুধবার , ১ জুলাই, ২০২৬ at ৫:১২ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে জিতলেও ঋণখেলাপি হওয়ায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেছেন তার অনুসারীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও বিভিন্নভাবে সড়ক অবরোধ করে রাখায় ব্লক হয়ে যায় ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ক। এ সময় উপজেলার সিটি গেট থেকে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দূরপাল্লার যাত্রীরা এ সময় আটকা পড়েন এবং দুভোগ পোহান। তবে সড়কে ব্যারিকেড দিলেও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। আড়াই ঘণ্টা পর বিকাল ৫টার দিকে যান চলাচল শুরু হয়।

বিকালে ছোট দারোগারহাট এলাকায় গাছ কেটে মহাসড়ক ব্যারিকেডের খবর শুনে ঘটনাস্থলে যান সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম এবং ওসি মো. মহিনুল ইসলাম। তারা বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মহাসড়ক থেকে সরে যেতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। তবে সড়ক থেকে গাছগুলো সরাতে হিমশিম খেতে হয় সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের।

এদিকে মহাসড়কে ব্যারিকেডে আটকা পড়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আসা লাশবাহী আ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের পরিবারের এক সদস্য সকালে মেডিকেলে মারা গেছেন। আমরা মীরসরাই উপজেলার মায়ানি ইউনিয়নে যাচ্ছি। ব্যারিকেড অতিক্রম করে কীভাবে লাশ নিয়ে বাড়ি পৌঁছাব?

সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ছালামত উল্লাহ বলেন, আমাদের নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরী জীবনের প্রায় দীর্ঘ ১১টি বসন্ত জেলখানায় কাটিয়েছেন। মানুষের জন্য, সীতাকুণ্ডবাসীর জন্য অনেক কাজ করেছেন। ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো তাদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদের নেতা আসলাম চৌধুরীর পরিবারও জেল খেটেছে। তিনি কারাগারে থাকাকালীন তার দুই ভাই মারা যান। কিন্তু তিনি কিছুক্ষণের জন্যও মুক্তি পাননি।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরছালিন বলেন, সড়ক অবরোধ করা পূর্বের কোনো ঘোষণা ছিল না। এ রায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মানতে পারেননি বলে তারা হঠাৎ করে সড়কে অবস্থান করেছেন। আমাদের নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরী বারবার ঘোষণা দিয়েছেন কেউ যেন মহাসড়ক অবরোধ না করেন। জনগণ যেন কষ্ট না পান। যাত্রীদের সবাই যেন নিরাপদে যার যার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

রায় ঘোষণার পর সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আসলাম চৌধুরী। তিনি নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান।

বিডিনিউজ জানায়, নগরীর সিটি গেট থেকে বড় দারোগারহাট পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০টি স্পটে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। যানবাহনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাজারের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়। বাড়বকুণ্ড এলাকায় সড়কের পাশ থেকে বড় একটি গাছ কেটে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআদালতে নিহার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি, কারাগারে প্রেরণ
পরবর্তী নিবন্ধজাসদ সভাপতি ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড