পাইলট প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১১০টা স্কুলের ২২ হাজারের শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিংয়ের মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, সারা দেশে এ মুহূর্তে ১৫০টা উপজেলায় এ কর্মসূচি চলছে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে দেশব্যাপী এ প্রোগ্রাম চালু হবে, যার মাধ্যমে ১ কোটি ১০ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন স্কুল ডে’ তে পুষ্টিকর খাদ্য দেয়া হবে। আমাদের বিদ্যমান পাইলট কর্মসূচি স্কুল ফিডিং যেটা আগামীতে আমরা নাম বদল করে ‘মিড ডে মিল’ করবো। এই স্কুল ফিডিংয়ের উদ্দেশ্য হলো গার্ডিয়ানদের উৎসাহিত করা যেন শিশুরা স্কুলে আসে এবং শিশুরা স্কুলে এসে যেন পুষ্টিকর খাদ্য পায়।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি শীর্ষক প্রকল্প’ সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকগণের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজিব কুমার সরকার। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
ববি হাজ্জাজ জানান, সরকারের টার্গেট–শিক্ষাঙ্গনের বাইরে যেন কোনো শিশু না থাকে। তিনি বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ‘জিরো আউট অব স্কুল চিলড্রেন’। অর্থাৎ প্রাক–প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির বয়সসীমার কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে। জিরো পার্সেন্ট, এটা হলো আমাদের সরকারের টার্গেট, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর টার্গেট। এটা করার জন্য আমরা অনেকগুলো কর্মসূচি সামনে নিয়ে এসেছি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যালয়ে শিশুদের আকৃষ্ট করা, পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই যে আপনারা, আমার পিটিআই এর যে শিক্ষার্থীরা আছেন, সহকারী শিক্ষকরা আছেন। উনাদের পে–স্কেল থেকে শুরু করে সম্মাননা সবকিছু নিয়ে অনেক অভিযোগ আছে, দুঃখ–বেদনা আছে। আমার ১১০ জন হেড টিচার আজকে এখানে আছেন। এর মধ্যে অনেকেই টেম্পোরারি হেড টিচার। আপনারা পার্মান্যান্ট র্যাঙ্ক পান নাই। কারণ ৩২ হাজারের বেশি আমার হেড টিচার এখনো দেওয়া হয় নাই। তো আপনাদের ভিতরে নিশ্চয় অনেক দুঃখ–কষ্ট আছে। এই প্রত্যেকটা দুঃখ–কষ্ট নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং উনার নেতৃত্বে আমরা সকলে কাজ করছি। আপনারা আস্থা রাখতে পারেন। খুব অল্প সময়ের ভিতরে আপনাদের ভেতরে যত দুঃখ–কষ্ট আছে এগুলো সবকিছু সুন্দরভাবে মোচন করার ব্যবস্থা করা হবে ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবই–নির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে খেলাধুলা, আনন্দ ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, কৌতূহল ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে বিদ্যালয়ে খেলনা, শিক্ষা উপকরণ এবং শিশুবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্কুল ফিডিং নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বিস্কুট বা এক প্যাকেট দুধ দেওয়ার বিষয়টিকে বাইরে থেকে যতটা সাধারণ মনে হয়, এর পেছনে ততটাই বিস্তৃত পরিকল্পনা ও গবেষণা রয়েছে। পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের দৈনিক ও সাপ্তাহিক পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাইলট কর্মসূচি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা মাঠে যে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করছেন, সেগুলো আমাদের জানান। কেন্দ্র থেকে বসে শুধু নির্দেশনা দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য নয়; বাস্তবে আপনারা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, কীভাবে এর সমাধান করা যায় এবং কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করা যায় সে বিষয়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত আমরা জানতে চাই।
তিনি জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে বাস্তব সমস্যাকে চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে এবং কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার একযোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮০ দিনে যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।












