আইনে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন মহাসড়কে আবারও দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে সিএনজিচালিত টেক্সি, টমটম ও ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের থ্রি হুইলার বা তিন চাকার গাড়ি। শুধু চলাচল করছে না, বরং উল্টো পথে চলতে গিয়ে ঝুঁকিও সৃষ্টি করছে এসব যানবাহন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পুলিশের কার্যকর তদারকির অভাবে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বেড়ে যাওয়ায় মহাসড়কে যানজট, বিশৃঙ্খলা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা–চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম–কঙবাজার এবং চট্টগ্রাম–রাঙামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার থ্রি হুইলার চলাচল করছে। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে একই সড়কে ধীরগতির এসব যান চলাচল করায় প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়কে সিএনজি টেক্সির কারণে দেশে একসময় দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার ২০১৬ সালের ১ আগস্ট থেকে দেশের ২২টি মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর মহাসড়কে যান চলাচলের গতি বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। দীর্ঘদিন ধরে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও সম্প্রতি আবারও থ্রি হুইলারের অবাধ চলাচল শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যাচ্ছে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড ও মীরসরাই অংশে। এই এলাকায় দীর্ঘ দূরত্বজুড়ে পর্যাপ্ত মেডিয়ান গ্যাপ না থাকায় অনেক চালক উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই সুযোগে অসংখ্য সিএনজি টেক্সি মহাসড়কে উল্টো পথে চলাচল করছে। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি স্বাভাবিক গতিতে চলা যানবাহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব থ্রি হুইলারের অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। যাত্রী বোঝাই করে তারা বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে চলাচল করছেন, যা প্রতিনিয়ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। পরিবহন–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঝেমধ্যে বিআরটিএ ও পুলিশ অভিযান চালালেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কয়েকদিন পর আগের চিত্র ফিরে আসে। ফলে আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে নিয়মিত যাত্রীবাহী বাস চালান মোহাম্মদ হারুন। গতকাল তিনি আজাদীকে বলেন, আমরা নির্ধারিত গতিতে চলি। কিন্তু হঠাৎ করে কোনো সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার সামনে চলে এলে বড় বাস নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।
বিআরটিএর এক কর্মকর্তা বলেন, মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে তারা প্রকাশ্যেই চলাচল করছে। পুলিশের দুর্বল তদারকির সুযোগে চালকেরা মহাসড়ক দখল করে নিয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ হওয়ায় আইন প্রয়োগও কঠিন হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তারা সুযোগ বুঝে মহাসড়কে উঠে পড়ে। বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক কিছু দেখেও না দেখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগজনক।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়ক মূলত দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য নির্মিত। সেখানে ধীরগতির থ্রি হুইলার চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়। তাই এসব যানবাহনের চলাচল শহর ও গ্রামীণ সড়কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে মহাসড়কে নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করার বিকল্প নেই।












