বিনয় মানুষকে করে মহিমান্বিত

যীশু সেন | শনিবার , ১৫ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব কখনোই অর্থসম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা ক্ষমতার পরিধি দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং তার চরিত্র, মানবিকতা, শিষ্টাচার ও বিনয়ের মধ্যেই প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়। শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানী করে, কিন্তু সুশিক্ষাই তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তাই ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত বিনয়, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।

দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সমাজে অর্থ, পদ, ক্ষমতা কিংবা প্রভাবের মোহে অনেকেই অহংকারে সাধারণ মানুষের প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ করেন। অথচ প্রকৃত সম্মান ক্ষমতার প্রদর্শনে নয়; বরং সেবার মানসিকতা, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও সৌজন্যবোধে নিহিত। একজন চিকিৎসকের মানবিকতা, একজন আইনজীবীর ন্যায়পরায়ণতা, একজন ব্যবসায়ীর সততা কিংবা একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার নম্র আচরণই তার প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে।

অহংকার মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে এবং বিবেককে আচ্ছন্ন করে। পক্ষান্তরে, প্রজ্ঞাবান মানুষ উপলব্ধি করেন যে প্রতিটি সাফল্যের পেছনে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সহকর্মী এবং সর্বোপরি সৃষ্টিকর্তার অশেষ অনুগ্রহ রয়েছে। তাই তারা বিনয়কে দুর্বলতা নয়, বরং আত্মমর্যাদা ও প্রজ্ঞার সর্বোচ্চ প্রকাশ হিসেবে ধারণ করেন।

প্রকৃতিও আমাদের এই শিক্ষা দেয়ফলভারে নত বৃক্ষই সমৃদ্ধির প্রতীক, আর শূন্য বৃক্ষই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। তেমনি সত্যিকার জ্ঞানী ও গুণী মানুষ বিনয়েই মহিমান্বিত হন। তাই আত্মসম্মান থাকবে, কিন্তু অহংকার নয়; আত্মবিশ্বাস থাকবে, কিন্তু অবজ্ঞা নয়। কারণ মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব অন্যকে ছোট করার মধ্যে নয়, বরং অন্যের মর্যাদা রক্ষা করার মধ্যেই নিহিত। বিনয়ই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার এবং স্থায়ী সম্মানের ভিত্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅনলাইন জুয়া থেকে সাবধান হোন
পরবর্তী নিবন্ধআত্মার বন্ধনে সুদৃঢ় থাকুক আত্মীয়তার সম্পর্ক