আজ অনলাইন জুয়া আমাদের সমাজে এক নীরব মহামারির রূপ নিয়েছে। স্মার্টফোন, সহজ ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্রগুলো ‘অল্প টাকায় রাতারাতি বড়লোক’ হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের এই ফাঁদে টানছে। বর্তমানে শহর ছাড়িয়ে গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে এর বিস্তার। অনেক সময়েই বিভিন্ন জনপ্রিয় খেলাকে কেন্দ্র করে এই অপরাধের মাত্রা আরও তীব্র হয়। কৌতূহলবশত সামান্য টাকা দিয়ে শুরু করে প্রথমে লাভের মুখ দেখে। সেখান থেকেই বাড়ে লোভ, একসময় হারাতে থাকে সঞ্চয়, জড়িয়ে পড়ে ঋণের জালে। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় পড়াশোনা, মানসিক সুস্থতা ও পারিবারিক শান্তি। কেউ কেউ ঋণের চাপ সামলাতে অপরাধের পথেও পা বাড়ায়। ফলে ক্ষতি শুধু ব্যক্তির নয় ধ্বংস হয় পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমাজ ও অর্থনীতি।
আমার মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। পরিবারকে সন্তানের অনলাইন কার্যক্রমে সচেতনভাবে নজর রাখতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে জুয়ার অ্যাপ ও সন্দেহজনক লেনদেন বন্ধে প্রযুক্তিগত নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।
মো: সাদ আল কাফি
শিক্ষার্থী, ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সাইন্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ম।











