মুক্তিযুদ্ধ–উত্তর প্রথম দশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশমাতৃকার প্রতি অপার ভালোবাসার অঙ্গীকার নিয়ে চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছিল দশটি নাট্যদল। প্রচলিত আখ্যান ও নাট্যনির্মাণরীতির বিপরীতে নিরীক্ষামূলক নাট্যনির্মাণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে তখন নবনাট্যচর্চা তথা গ্রুপ থিয়েটারের একটি নতুন সড়ক উন্মোচিত হয়। কালের বর্তমান প্রান্তে এসে সে সড়ক আজ ফুলে–ফলে সজ্জিত অপূর্ব নন্দনকাননে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রামের গ্রুপ থিয়েটার চর্চার প্রাথমিক দশকে সংগঠিত নাট্যদলের মধ্যে– উন্মেষকালের ইতিহাসের বিশ্বস্ত সাক্ষী হয়ে– এখনো সক্রিয় রয়েছে পাঁচটি নাট্যদল। এর মধ্যে অন্যতম হলো গণায়ন নাট্যসম্প্রদায় (১৯৭৫)। দলটি বিগত অর্ধশতকের অধিক কাল ধরে চট্টগ্রামের মঞ্চে নাটকের নির্মাণ, প্রদর্শনী, উৎসবসহ নানা নাট্যকর্মকান্ডে নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত রয়েছে। ‘গণায়ন’ চট্টগ্রামের নব–নাট্যান্দোলনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা প্রান্ত ছুঁয়ে প্রাতিস্বিক ও অহংকৃত ভূমিকা পালন করে এসেছে। পঞ্চাশ বছরের নাট্যচর্চায় ‘গণায়ন’–এর এই ভূমিকা এবং নাট্যাঙ্গনে তাদের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সৃজনের বিস্তৃত ভাষ্য নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘গণায়ন বৃত্তান্ত’। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন নাট্যকার অভীক ওসমান।
‘নাটকের শিল্পিত চেতনায় জীবনসত্য প্রকাশে প্রত্যয়ী আমরা’– এই স্লোগান ধারণ করে ৩৩ হাজারী লেন, চট্টগ্রাম থেকে ১৯৭৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ‘গণায়ন’ আত্মপ্রকাশ করে। পরের বছর ১৭ জানুয়ারি রহমতগঞ্জের সিএন্ডবি মিলনায়তনে মিলন চৌধুরীর নির্দেশনায় চিররঞ্জন দাশের ‘গফুর আমিনা সংবাদ’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে ‘গণায়ন’–এর মঞ্চাভিষেক হয়। ‘গণায়ন’–এর দলীয় বক্তব্যে বলা হয়েছে-‘শিল্পিত প্রকাশ ভঙ্গীমার বলিষ্ঠতম মাধ্যম নাটকে জনারণ্যের জীবনায়নের সত্য ও সুন্দর সংবাদ বহনের ঝুঁকি নিয়ে সৃষ্টির ফসল ফলনে গণায়ন প্রয়াসী’। শিল্পবিশ্বাস নিয়ে ‘গণায়ন’–এর জবানবন্দি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘গণায়ন’ বলে– ‘শিল্পের জন্য শিল্পপূজার নামে জীবনচ্যুত পলায়নী স্ববিরোধীতা অথবা নৈরাজ্যবাদী অপসংস্কৃতির উলঙ্গ প্রকাশে গণায়ন বিশ্বাসী নয়’। দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন নাট্যকার মিলন চৌধুরী। তিনি গণায়নের প্রথম তিনটি নাটকের নির্দেশক। এর মধ্যে দুটি তাঁর রচনা। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ডা. মনোতোষ ধর। ১৯৮০ সাল থেকে দলের হাল ধরেন অধ্যাপক ম. সাইফুল আলম চৌধুরী। বিগত চার দশক ধরে তাঁর নেতৃত্বে বিপুলভাবে বিকশিত হয়েছে ‘গণায়ন’। চট্টগ্রামে গ্রুপ থিয়েটার চর্চায় ‘গণায়ণ–এর রয়েছে প্রাতিস্বিক ভূমিকা। নিজস্ব নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতৃ ও কলাকুশলীর সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ দল গঠনে ‘গণায়ন’ সফল। গত পাঁচ দশকের নাট্যচর্চায় ছত্রিশটি নাটকের দুই সহস্রাধিক প্রদর্শনী, পাঁচটি নাট্য–উৎসব, স্থানীয় ও জাতীয় নাট্যমোর্চায় প্রতিনিধিত্ব এবং শিক্ষণ–প্রশিক্ষণের অজস্র কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনে ঈর্ষণীয় ভূমিকা পালন করেছে। বয়সে, কর্মে, সৃজনে এবং সাংগঠনিক কাঠামোর বিবেচনায় গণায়ন নাট্য সম্প্রদায় বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মর্যাদাসম্পন্ন নাট্যদল। এ–রকম একটি ঐতিহ্যবাহী নাট্যদলের কর্মকাণ্ড নিয়ে গ্রন্থবদ্ধ বৃত্তান্ত রচনা করা– নাট্যাঙ্গনের ইতিহাস–ঐতিহ্য সংরক্ষণে– একটি সময়োপযোগী তাৎপর্যপূর্ণ প্রচেষ্টা।
‘গণায়ন বৃত্তান্ত’–র সম্পাদক অভীক ওসমান একাধারে কবি, নাট্যকার, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নাট্যচিন্তক। গ্রন্থসম্পাদনায় তিনি প্রাজ্ঞ ও পারঙ্গম। ইতোমধ্যে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে– কাজী নজরুল ইসলাম, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, মাওলানা মনিরুজ্জামান এছলামাবাদীর জীবন ও কর্ম নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ। বর্তমান গ্রন্থের সম্পাদনায়ও তাঁর পরিস্রুত দৃষ্টির পরিচয় রয়েছে। ‘গণায়ন বৃত্তান্ত’–র জন্য তিনি যথার্থ সম্পাদক। কেননা, ‘গণায়ন’–এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য তিনি। একটি জীবন তিনি অতিবাহিত করেছেন ‘গণায়ন’–এর উষ্ণ সাহচর্যে। দলের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন গভীর অভিনিবেশে। তাঁর রচিত চারটি নাটক মঞ্চস্থ করেছে ‘গণায়ন’ এবং প্রকাশ করেছে তিনটি নাট্যগ্রন্থ। পাঁচ দশক ধরে তিনি নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন গণায়নের সমুদয় নাট্যকর্মকাণ্ড। গণায়ন নিয়ে তাঁর এই অবলোকন ও অভিজ্ঞতার সঞ্চয় দিয়ে তিনি সাজিয়েছেন ‘গণায়ন বৃত্তান্ত’। গ্রন্থটি কেবল ‘গণায়ন’–এর ইতিহাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের নাট্য ও সংস্কৃতিচর্চার একখণ্ড ঐতিহাসিক ও বিশ্বস্ত দলিল। সম্পাদকের দৃষ্টিভঙ্গিও তা–ই ছিল। সম্পাদকীয়তে তিনি বলেছেন– ‘গণায়ন বৃত্তান্ত’ শুধু গ্রন্থ নয়, এটা শুধু নাটক নয়– সম্মিলিত সংস্কৃতির একটা ইতিহাস’। এর সমর্থনে ভূমিকা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত ‘স্বাধীনতা–পূর্ব ও স্বাধীনতা–উত্তর চট্টগ্রামের নাটক’ প্রবন্ধটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। দীর্ঘ এ–প্রবন্ধে পঞ্চাশের দশক থেকে পঁচাত্তরে গণায়ন প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত চট্টগ্রামের সংস্কৃতি বিকাশের ধারাটি অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ হয়ে উঠে এসেছে।
‘গণায়ন’–এর পঞ্চাশ বছরের বহুমাত্রিক কর্মকাণ্ডকে দুই মলাটে গ্রন্থবদ্ধ করা অত্যন্ত দুরূহ কর্ম। কেননা, এ–দীর্ঘ পথ–পরিক্রমায় দলটি অজস্র কর্মকাণ্ডে সমৃদ্ধ। তাছাড়া, প্রতিটি নাট্য–প্রযোজনা নির্মাণের পেছনে থাকে হাজারও গল্প। স্বপ্ন ও সংগ্রামের অজস্র আখ্যানে মোড়া থাকে প্রতিটি নাট্যদল। পথ চলতে চলতে দল সঞ্চয় করে বহু অভিজ্ঞতা। প্রতিকূল বাস্তবতায় এগিয়ে যেতে হয় নাট্যদলকে। তবুও দলের ঝুলিতে জমে কিছু অর্জন। বৈষয়িক দৃষ্টিতে সে–সবের কোনো মূল্য না থাকলেও– শিল্পের ইতিহাসে তা গুরুত্বপূর্ণ। সৃষ্টি ও সংগ্রামের মধ্যদিয়ে শিল্পসড়কে সৃষ্টি হয় নতুন বাঁক, নতুন পরিক্রমা। চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে এ–পরিক্রমায় মিশে আছে শ্রমে ঘামে গড়ে ওঠা নাট্যদলগুলোর অজস্র নাট্যকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত আত্মনিবেদন। চট্টগ্রামের নাট্যচর্চায় নাটকের প্রতি অপরিসীম ভালোলাগা ছাড়া আর কিছু প্রাপ্তি নেই। অপ্রাপ্তির এই অঙ্গন স্ফুলিঙ্গের মতো কখনো কখনো সৃষ্টি করেছে চকিত ইতিহাস। দীর্ঘ চর্চার প্রান্তে কখনো কখনো লাভ করেছে পথিকৃতের স্বীকৃতি– কর্মের গৌরবময় অহংকার। ‘গণায়ন’–এর দীর্ঘ পথচলায় তেমনি অজস্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্জন, ইতিহাস ও অভিজ্ঞতাকে মলাট বন্দি করার দুরূহ কর্মটি করেছেন অভীক ওসমান। ২৬টি শিরোনামে ৩২৮ পৃষ্ঠাব্যাপী তিনি নিজে এবং অন্যের লেখার সহযোগিতায় বর্ণনা করেছেন ‘গণায়ন’–এর উন্মেষ, বিকাশ ও প্রতিষ্ঠার আনুপূর্বিক ইতিহাস। এ–ইতিহাস রচনায় তিনি কেবল নিজের দলের বৃত্তান্তকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তা নয়। নাট্যাঙ্গনের সমকালীন বাস্তবতা, সম্মিলিত উদ্যোগ প্রভৃতি প্রান্তেও আলোকসম্পাত করেছেন। সেই সাথে স্বাধীনতাপূর্ব এ–অঞ্চলের আর্থ–সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং নাট্যচর্চার পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক তথ্য–উপাত্তও উপস্থাপন করেছেন। গ্রন্থটিতে কোনো অধ্যায় বিভাজন না থাকলেও স্পষ্টত একে দুটো ভাগে বিভক্ত করা যায়। প্রথমভাগে পড়বে ‘গণায়ন’–এর প্রতিষ্ঠা, নাট্যচর্চার বিবরণ ও অর্জনের বিস্তৃত বৃত্তান্ত। অন্যভাগে রয়েছে ‘গণায়ন’–এর শুভানুধ্যায়ী, পৃষ্ঠপোষক ও দলীয় কর্মীদের স্মৃতিচারণ ও অভিজ্ঞতার বিবরণ। নাটকই নাট্যদলের প্রধান পরিচয়। এ–বিবেচনায় গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো– ‘গণায়নের প্রযোজনাসমূহ’ শীর্ষক বৃত্তান্তটি। এ–অংশে ‘গণায়ন’ প্রযোজিত ছত্রিশটি নাটকের নাম, নাট্যকার ও নির্দেশকের নাম, প্রথম মঞ্চায়নের তারিখ ও স্থান, প্রদর্শনী সংখ্যা, কুশীলববৃন্দসহ নাটকের কাহিনী–সংক্ষেপ মুদ্রিত হয়েছে। এটির মাধ্যমে গণায়নের শিল্পরুচির বৈচিত্র্য, অঙ্গীকার ও গন্তব্যের রূপরেখা পাওয়া যায়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, দেশের বাইরে এবং চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় নাট্য–উৎসবে গণায়নের অংশগ্রহণের তালিকাটিও গুরুত্বপূর্ণ। নাট্য–উৎসব আয়োজন একটি দলের শক্তি ও সামর্থ্যের পরিচয় বহন করে। গণায়ন মোট পাঁচবার উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে তাদের দলীয় শক্তি ও সামর্থ্যের যে পরিচয় দিয়েছে তা প্রশংসাযোগ্য। এই পাঁচটি উৎসবে প্রকাশিত স্যুভেনিরের প্রচ্ছদ, উৎসবের প্রতিবেদন, কমিটির বিবরণ, অনুষ্ঠান ও নাট্যসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য–উপাত্ত সংযোজিত হয়ে এ–গ্রন্থে। পঞ্চাশ বছরের পথচলায় ‘গণায়ন’–এর অর্জনসমূহ উঠে এসেছে বিভিন্ন শিরোনামে। যেমন– ‘গণায়নই প্রথম রবীন্দ্রনাথকে মঞ্চে আনে’, ‘স্বাধীনতা–উত্তর বাংলাদেশে প্রথম পথনাটক সূচনাকারী গ্রুপ থিয়েটার সংগঠন গণায়ন’ প্রভৃতি। এছাড়া, ‘গণায়ন’–কে ফোকাস করে গ্রন্থে স্থান পেয়েছে– গণায়ন প্রতিষ্ঠার পটভূমি, বক্তব্য ও উদ্দেশ্য, সাংগঠনিক কাঠামো, মহড়ার স্থান, মোর্চায় সম্পৃক্ততা, উৎসব আয়োজন ও অংশগ্রহণ, বিদেশে প্রদর্শনী, প্রকাশনা, পত্রিকার মন্তব্য, পোস্টার, স্যুভেনির ও নাট্যপত্রিকার প্রচ্ছদ এবং বিভিন্ন নাটকের ছবি। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছেন স্বনামধন্য চিত্রকর খালিদ আহসান। প্রকাশক খড়িমাটি।
চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনের বয়স এখন অর্ধশতক অতিক্রান্ত। নিয়মিত/অনিয়মিত শতাধিক দলের কর্ম–কোলাহলের ফসল আজকের নাট্যাঙ্গন। নানা বাঁক–পরিক্রমা রয়েছে চট্টগ্রাম নাট্যাঙ্গনের। উন্মেষকালের দলগুলো মিলনায়তনহীন বৈরি–বাস্তবতায় এ–নগরীতে নবনাট্যের বীজ বপন করে ফলিয়েছেন বিস্ময়কর শিল্পফসল। রচনা ও নির্মাণের বহুক্ষেত্রে সে–সময় চট্টগ্রামের নাট্যকর্মীরা সমগ্র দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। নাটকের অনেক সোনালি অধ্যায় রচিত হয়েছে পূর্বসূরীদের হাতে। সে সব পথিকৃতরা অনেকেই আজ প্রয়াত– অনেকেই বিচ্ছিন্ন–নিরুদ্দেশ। অতীতের বৈরীবাস্তবতার অভিজ্ঞতা আর সোনালি সাফল্যের গল্পমালা এখন অনেকটা বিস্মৃতপ্রায়। অভীক ওসমানের ‘গণায়ন বৃত্তান্ত’ পাঠে অতীতের নাট্যাঙ্গন আবার জেগে ওঠে স্মৃতির মাণকোঠায়। মহাকালের মহাস্রোতে এখনো সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়নি। যতটুকু তথ্যায়ন সম্ভব তা আগামী দিনের নাট্যকর্মীদের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি। ‘অরিন্দম’ করেছে ‘পঁয়তাল্লিশ পেরিয়ে অরিন্দম’ (সম্পা. শিশির দত্ত) শিরোনামে। এবার ‘গণায়ন বৃত্তান্ত’ প্রকাশিত হলো। এভাবে পঞ্চাশ বয়সী অন্যরাও তথ্যায়নে এগিয়ে এলে সত্তর দশকের নাট্যচর্চার একটা চিত্র পাওয়া যেত। আগামী দিনের কৌতুহলী তরুণ নাট্যকর্মী ও নাট্য–গবেষকদের জন্য এটা খুবই জরুরি।
চট্টগ্রাম নাট্যাঙ্গনের অতীত এবং উন্মেষকালের বহুমাত্রিক স্মৃতিখণ্ড কালস্রোতে বিস্মৃত হওয়ার পূর্বে ‘গণায়ন বৃত্তান্ত’ স্মারকগ্রন্থের প্রকাশ কিছুটা আশান্বিত করে। একটি নাট্যদলের পঞ্চাশ বছরের ইতিহাস সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে নব–নাট্যাঙ্গনের সূচনাকালীন পশ্চাৎভূমি এবং সমকালীন নাট্যচর্চার কিছুটা আভাসতো অন্তত পাওয়া গেল।
লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক, নাট্যজন










