আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নগরীর বিভিন্ন খালে খনন ও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর আরও পাঁচটি স্থানে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। সকালে বহদ্দারহাট এলাকার ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডে ডোম খাল, ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে সুন্নিয়া মাদ্রাসা খাল ও সদর খাল, অক্সিজেন এলাকার ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে অনন্যা আবাসিক খাল এবং ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের টেক্সটাইল ব্রিজ সংলগ্ন চশমা খালে খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়।
খাল খনন পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে আমরা নগরীর খাল, নালা ও ড্রেনগুলোকে সচল করার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। খনন ও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে খালগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে। তিনি বলেন, চসিকের পক্ষ থেকে নিয়মিত খাল পরিষ্কার ও খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও খালে ময়লা–আবর্জনা ফেলা বন্ধ না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে এবং খাল–নালায় বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। মেয়র আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গঠনে সিটি কর্পোরেশন এবং নাগরিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। জনগণের সহযোগিতা থাকলে জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন আরও সহজ হবে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, উপ–প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া, চসিকের কর্মকর্তা–কর্মচারীবৃন্দ ও স্থানীয় ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, চসিকের পক্ষ থেকে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমাতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবস্থিত খালসমূহে পর্যায়ক্রমে খনন, আবর্জনা অপসারণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোকে পুনরুদ্ধার ও কার্যকর রাখার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।












