রিকশাবিহীন পাহাড়ঘেরা রাঙামাটি জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র বাহন সিএনজি চালিত অটোরিকশা। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শহরের মূল সড়কগুলোতে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শত শত অবৈধ বা রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা। নিবন্ধন ও লাইসেন্সবিহীন এসব যানবাহনের কারণে শহরের প্রধান সড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। যা যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) রাঙামাটি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শহরে নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা ১ হাজার ৪১৬টি। তবে এর বাইরে আরও প্রায় ৪০০–৫০০টি অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা প্রতিদিন অবাধে চলাচল করছে।
অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের অভিযোগ, এসব অবৈধ গাড়ির অনেক চালকেরই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তারা শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে মূল সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। ফলে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত যানজট লেগে থাকছে এবং বৈধ সিএনজি চালকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। রাঙামাটির স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল চাকমা নামে একজন বলেন, সিএনজিগুলোর কারণে শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা বনরূপা, তবলছড়ি, রিজার্ভ বাজার এবং কলেজ গেট এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। গাড়িগুলো পার্কিং এর কোনো শৃঙ্খলা নেই। যে যার মতো সড়কের ওপরই আঁকাবাঁকা করে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখে। রাস্তা পার হতে যেখানে ১ মিনিটও লাগার কথা নয় সেখানে এখন ৫–৬ মিনিটি লাগে রাস্তা পারাপার হতে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙামাটি জেলা কমিটির সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার বলেন, বিআরটিএ এবং ট্রাফিক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে নিবন্ধনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা দরকার। রুট পারমিট ছাড়া কোনো অটোরিকশা যাতে শহরে চলাচল করতে না পারে সে ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ, স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এক যোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার। রাঙামাটি জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ও চালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাবু বলেন, অবৈধ সিএনজিগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেই।
রাঙামাটির ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) জামান সিকদার বলেন, শহর এলাকায় এসব অবৈধ সিএনজিগুলোর চলাচল এখন আগের চেয়ে কমে এসেছে। কয়েকটা গাড়ি আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলাচল করলেও আমরা প্রতিদিন কয়েকটা গাড়ি ধরতেছি, মামলা দিচ্ছি, আটক করতেছি। কিন্তু এরা জরিমানা দিয়ে গাড়িগুলো আবার চালায়। আমাদের সামনে পড়লে আবার ধরি। এসব গাড়ির বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু এটা একেবারে জিরো করতে পারছি না। আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) রাঙামাটির মোটরযান পরিদর্শক কে মো সালাহ উদ্দিন বলেন, রাঙামাটি শহরের ১ হাজার ৪১৬টি সিএনজির রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। এর বাইরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ৪০০ হতে ৫০০ গাড়ি চলে। এসব অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি–না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা আদায়সহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।












