রেলওয়ের ডিজিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

৮৬৩ খালাসী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ৯ আগস্ট, ২০২৬ at ২:২১ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ রেলওয়ের ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ৬ আগস্ট দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও মেসার্স জান্নাত কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি মো. হুমায়ুন। অভিযোগে ৮৬৩ খালাসী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অনুসন্ধান করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পোষ্য কোটায় নির্ধারিত ৩১১টি পদের মধ্যে ৩০৯টি পূরণ করা হয়। যোগ্য প্রার্থী না থাকায় দুটি পদ খালি রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত কয়েকজন আদালতের দ্বারস্থ হলে বিষয়টি নিয়ে একাধিক পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়া চলে।

অভিযোগকারীর দাবি, আদালত যোগ্য আবেদনকারীদের পোষ্য কোটা বজায় রেখে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও পরবর্তীতে সেই নির্দেশনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে ৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশের সঙ্গে এ নিয়োগের সামঞ্জস্য কতটা ছিল, সেটি খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে দুদকের কাছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত তিন সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটি ১৩২ জন রিট আবেদনকারীর তথ্য পর্যালোচনা করে মাত্র ২৪ জনের তথ্য সঠিক পেয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে ৪২ জনকে ভুয়া রিটকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১৪ জন পরীক্ষায় অকৃতকার্য, ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নেননি, ১১ জন পোষ্য কোটায় আবেদন করেননি এবং ৩৩ জন কমিটির সামনে উপস্থিত হননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর প্রশ্ন, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনে এতসংখ্যক আবেদনকারীর বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য থাকার পরও কী প্রক্রিয়ায় এবং কোন ভিত্তিতে ৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলো। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য দুদকের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি’ নামের একটি সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, রেল মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও সংগঠনটি বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। নিয়োগপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে সংগঠনটির মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া, আদালতের আদেশ নিজেদের মতো করে উপস্থাপন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নিয়োগপত্র দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ অবস্থায় নিয়োগ দেওয়ার আইনগত ভিত্তি কী ছিল, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারী মো. হুমায়ুন বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেসব অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি দুদকে অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মুহাম্মদ রেজাউল কবীর বলেন, অভিযোগটি জমা দেওয়ার পরপরই তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছেনি। অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুদকে করা অভিযোগে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন ছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান, রেলওয়ের নতুন রেলওয়ে স্টেশনের ঘোষক দেলোয়ার হোসেন বাপ্পি এবং পূর্বাঞ্চলের আইন কর্মকর্তা মো. আল মাহমুদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে দুদকে দেওয়া অভিযোগে উত্থাপিত এসব তথ্য ও অভিযোগ এখনো অনুসন্ধান বা তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু করেছে কি না, কিংবা তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী আগমন উপলক্ষে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি