ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, আমরা অনেক সময় খেয়াল করেছি যে পলাতক স্বৈরাচার বারবার বলছে সে ডিসেম্বরে দেশে আসবে। আবার বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ বলছে ডিসেম্বরে সরকার পড়ে যাবে, মানুষ এটার মধ্যে কোন যোগসূত্রটা খুঁজে পাই কিনা, এটা আমার মনে একটা প্রশ্ন আছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়িতে পার্বত্য জেলা পরিষদে নব নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছিল কিন্তু আবার সাত মাসের মধ্যে সেটার মোড় ঘুরিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি উর্ধমুখী গতি মাত্র শুরু করেছেন। তখন একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। একদিকে তারা বলছে জ্বালানির সংকট, ঐদিকে আবার বিপুল সংখ্যক গাড়ি নিয়ে রোড মার্চে যাচ্ছে। তাহলে এটা আসলে হচ্ছে কিনা, মানুষ কিন্তু এসব বুঝে।
বাংলাদেশের মানুষ যেটা চায়, আমি যেটা মনে করি, এটা হচ্ছে একটা স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা। জনজীবন যদি বিপন্ন হয় কোন কারণে, যদি দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় কোন কারণে, অবশ্যই সরকারের যা করার দরকার সেটা করবে, আইনের ভিতরে থেকে করবে। দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে হলে, আমাদের সবাইকে নিয়ে কাজ করবে। জনগণ বিচার করবে পাঁচ বছর পরে। আমরা যদি সফলই হই, সেটার বিচারও জনগণ করবে।
তিনি আরো বলেন, এদেশ থেকে পালানোর রেকর্ড আমাদের নাই, আমরা তো এখানেই ছিলাম। আমরা পাঁচ বছর পরও যদি জনগণ কোন কারণে আমাদের উপর আস্থা রাখতে না পারে, আমরা সেটাও মেনে নিব। আবার যদি আস্থা রাখতে পারে, তাহলে আমরা পূর্ণ মেয়াদ অবশ্যই থাকব। আমরা জনগণকে সেবা প্রদানে খুব দৃঢ় প্রতীক্ষ। পরে জেলার আইনশৃঙ্খলার তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সমন্বয়ক হিসেবে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধানগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বিশেষ সভা করেছেন তিনি।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, খাগড়াছড়ির জেলার আঞ্চলিক মহাসড়কগুলো যথাযথভাবে প্রশস্তকরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আফছার, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য প্রমুখ। এর আগে মাটিরাঙায় জামে মসজিদ ও তপ্ত মাস্টার পাড়ায় একটি সেতুর উদ্বোধন করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী।










