জিয়াউর রহমানের স্মৃতিসৌধ থেকে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা

| শনিবার , ৭ নভেম্বর, ২০২৬ at ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে (পোমরা) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে প্রথম দফায় পোমরা স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন সড়কে হামলা এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় রাউজান পাহাড়তলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।

হামলার শিকার নেতাকর্মীদের দাবি, তারা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারী। অন্যদিকে, অভিযুক্তরা বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী রাসেল জানান, স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে তসলিম ও ছোটন আজমের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে রাউজান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, মারুফ, নাছির ও ফারুকসহ অন্তত ৮ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

তবে হামলার কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটন (গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুসারী)।

তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। যাদের ওপর হামলার দাবি করা হচ্ছে, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অনুসারী।” একইভাবে ঘটনার বিষয়ে অবগত নন বলে জানান নবগঠিত রাউজান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী নুরুল হুদা।

তিনি বলেন, “আমরা সকালে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলাম এবং দুপুর ১২টার মধ্যেই চলে আসি। হামলার বিষয়ে আমি শুনিনি।”

এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গোলাম আকবর খোন্দকারের ছেলে তারেক আকবর খোন্দকার এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, “চুয়েট ক্যাম্পাস সংলগ্ন শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে বের হওয়ার পথে নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর অপর এক গোষ্ঠীর হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। যারা শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী বলে পরিচয় দেন, তারা কীভাবে নিজ দলের দায়িত্বশীল নেতাদের ওপর হামলা চালান? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এ ধরনের হামলা পুলিশি ভূমিকা ও হামলাকারীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।”

তিনি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জেনেছি। কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে থানায় এখনো কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে কোনো অভিযোগ দেয়নি।”

পূর্ববর্তী নিবন্ধফটিকছড়িতে প্রস্রাব করার কথা বলে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পালিয়ে যায় মাদক কারবারি