আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ৩০০ ফুট পতাকার জবাব যেন মাঠের বাইরের ‘সাম্বা নৃত্য’ দিয়েই দিল ব্রাজিলের সমর্থকরা। মাত্র একদিনের ব্যবধানে রাঙ্গুনিয়ায় বসেছিল সাম্বা ফুটবলের অনুরাগীদের এক বিশাল মেলা। ফুটবলপ্রেমী আর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা থেকে রাঙ্গুনিয়ার ব্রাজিল সমর্থকরা আয়োজন করল এক জমকালো ও বর্ণাঢ্য উৎসবের। গতকাল বুধবার উপজেলার ‘ড্রিম রেস্টুরেন্টে’ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো ‘ব্রাজিল ফ্যান গেট–টুগেদার ২০২৬’। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নিবন্ধিত শত শত ব্রাজিল সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। হলুদ আর সবুজের মিশ্রণে পুরো আয়োজনটি রূপ নিয়েছিল এক টুকরো মিনি ব্রাজিলে।
দিনের শুরুতেই উপজেলার প্রধান সড়কে বের করা হয় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে, হাতে পতাকা আর মুখে ‘ব্রাজিল–ব্রাজিল’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। ভুভুজেলা আর ড্রামের তালে তালে সমর্থকদের এই আনন্দ র্যালি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। একদিন আগের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের র্যালির পর ব্রাজিলের এই বিশাল শোডাউন যেন রাঙ্গুনিয়ার ফুটবল আমেজকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিলনমেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনার পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন সিকদার, প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান এবং ব্যাংকার ইয়াসিন আরাফাত চৌধুরী মুন্না। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্বাস হোসাইন আফতাব, ‘রাঙ্গুনিয়া ব্রাজিল ফ্যানস’–এর এডমিন কমিটির সদস্য মো. ফাহিম, মো. ইসফাক, মো. শাখাওয়াত, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ ইমন, মো. শাহেদ, মো. অন্তর ও মো. হৃদয়।
কেবল র্যালিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই ‘ফ্যান গেট–টুগেদার’। দিনব্যাপী আয়োজনের ভেতর ছিল সেলেসাওদের নান্দনিক সব ফুটবলীয় আবহ। এরমধ্যে ছিলো জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সেরা ও স্মরণীয় ম্যাচগুলো প্রদর্শন করা হয়, যা সমর্থকদের পুরোনো নস্টালজিয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ফুটবল এবং ব্রাজিল দল সম্পর্কিত নানা রকম কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ইনডোর মিনি গেমসের আয়োজন করা হয়। দুপুরের আকর্ষণীয় মধ্যাহ্নভোজের পর ছিল কেক কাটা ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব। কুইজ ও গেমসে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় সব স্মারক।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কেবল নিজেদের ফুটবল শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা নয়; বরং রাঙ্গুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সমপ্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করা। মাঠের লড়াই মাঠে থাকলেও, মাঠের বাইরে যেন খেলাধুলা একটি ইতিবাচক সামাজিক বন্ধন তৈরি করতে পারে, সেটাই এই উৎসবের মূল বার্তা।











