সাকিব তার ছেঁড়া ফুটবলটা ঠিক করার চেষ্টা করছিল। ঠিক তখনই তার ছোট চাচা বাসায় এলো।
বলে নিয়ে কি করছিস?
দেখছনা কি করছি ?
ফুটবল কি ছিঁড়ে গেলো নাকি রে?
হ্যাঁ দেখতেই তো পাচ্ছো তবুও বক বক কর খালি।
কিন্তু এই মরা চিকন টেপ দিয়ে কি ঠিক হবেরে বাঁচা?
আমার কাছে নতুন ফুটবল কেনার টাকা নেই, তাই এই টেপ দিয়ে কাজ সারতে হবে চাচু।
আচ্ছা শোন আমি তোকে একটা নতুন কিনে দেবো।
সত্যি?
হ্যাঁ তবে এই মুহূর্তে আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
সাকিব জানে চাচা কি বলবে,আজ তুই সারদিন কি কি করেছিস, কি খেয়েছিস, সারাদিন কি পড়েছিস? চালাকি করে সব পড়া মুখস্ত নিবে। এই হলো চাচুর রোজকারের আলাপ। কিন্তু তা মোটেও হল না সাকিবের কথার সাথে চাচার আজকের কথা মিলল না।
চাচা বললেন, আচ্ছা বলতো আজ আমার এতো ঘুম পাচ্ছে কেন? সাকিব চাচার কথা শুনে তেমন অবাক হলো না।
চাচার ছোট ছেলে তামিম ভেজায় দুষ্ট। সারাদিন ঘুমায়, সারারাত জেগে থাকে। এতে চাচা– চাচি দুজনে রাতে ঘুমোতে পারে না। সারারাত তামিমকে পাহারা দিতে হয়। তাই হবে হয়তো।
তামিমের চে চে শব্দে সারারাত ঘুমোতে পারনা তাই হবে আর কি। এই কথা তো সবাই জানে।
কি বললিরে ছোঁডা? শেষ পর্যন্ত আমার মাসুম বাচ্চার কথা বললি?
কিন্তু সাকিবের চাচার কথায় তেমন একটা মন নেই। ফুটবল জটিলতার কারণে আজ চাচার দুষ্টামি তার একদম ভালো লাগছে না।
সাকিবের ফুটবল নিয়ে ধস্তাধস্তি দেখে চাচার মেজাজ যায় বিগড়ে ।
আহা! রাখ না এই জিনিস গুতোগুতি করা। তোর কাণ্ড দেখে আমার মাথা ধরছে। ধরলে ধরুক আমার বল ঠিক করতেই হবে।একটু পরেই খেলতে হবে।বন্ধুরা আমাকে ডাকতে আসবে।
কিন্তু এই জিনিস আর ভালো হবে না খোকা একবার পাম্প ওঠা নামা করলে আর ভালো হয়না।
চেষ্টা করে দেখি।
তুই আর দেখিস না বাবু। আমি একটা নতুন কিনে দিবো।
তাহলে এখুনি দাও।
কাল দেবো।
কাল হবে না আজই লাগবে।
সাকিব ভাবনায় পড়ে গেলো । তামিম যদি কারণ না হয়ে থাকে তাহলে অন্য কি হতে পারে? সাকিব মাথা চুলকায়।
কি পারলি না? এতো সময় নিলে সাধারণ জ্ঞানের প্রতিযোগিতায় ডিম পাবি।
ডিম আমার প্রিয় খাবার।
কিন্তু তুমি যে ডিম উলটিয়ে খাওনা কাঁচা খাও এতে অসুখ করবে। এখন থেকে ডিম দু,পাশে ভালো করে ভেজে খাবে দেশে যে বড় বড় রোগ আসছে তাই একটু সতর্ক থাকিস।
ঠিকই বলেছ। এইবার তুমি বলে দাও কেন ঝিমুচ্ছো।
কাল রাতে মধু ভাত খেয়েছি।খাওয়ার পর মজার ঘুম আসে।
বাহ! কিন্তু চাচু এইটা কেউ কি ধরতে পারবে?
পারবে যারা খায় তারা জানে। তুই পারলি না এই ফুটবলের জন্য।
হুম।
আচ্ছা গেলাম এই নে তোর ফুটবল কেনার টাকা। চাচা পকেট থেকে একটা পাঁচশত টাকার নোট বের করে দিলেন সাকিবকে। আর সাকিব পুরনো ফুটবল ফেলে নতুন ফুটবল কিনতে দৌড় দিলো।








