লিওনেল মেসির জাদুকরি পা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অ্যাক্রোবেটিক ফিনিশ, লামিনে ইয়ামালের উইং–ঝলক আর কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত গতি–সব মিলিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপের অপেক্ষা প্রায় শেষ। আগামী বৃহস্পতিবার পর্দা উঠবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। খবর বাংলানিউজের।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্ব আসরে দেখা যাবে ফুটবলের দারুণ সব কিংবদন্তিদের, সঙ্গে থাকবে নতুন প্রজন্মের উদীয়মান তারকারাও। সেখান থেকে টুর্নামেন্টে যারা নজর কাড়তে পারেন, এমন ১০ ফুটবলাররা হলেন–
লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা : চার বছর আগে অধরা বিশ্বকাপ জিতে শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন লিওনেল মেসি। এবার ৩৮ বছর বয়সে আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এটি হতে যাচ্ছে ২য় পৃষ্ঠার ৭ম কলাম
বিশ্বকাপের মূল পর্বে তার যৌথ রেকর্ড ষষ্ঠ অংশগ্রহণ। তবে বয়স ও ফিটনেসের কারণে এবারের বিশ্বকাপে তার ভূমিকা কিছুটা সীমিত হতে পারে। তবু শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনার জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করবে।
লামিনে ইয়ামাল, স্পেন : বয়স মাত্র ১৮ হলেও লামিনে ইয়ামালের পরিণত ফুটবল অনেক বেশি অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত দেয়। নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা এই উইঙ্গার ইতোমধ্যে বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। ইউরো ২০২৪ জয়ে স্পেনের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন ইয়ামাল।
কিলিয়ান এমবাপ্পে, ফ্রান্স : ২০২২ বিশ্বকাপ ছিল কিলিয়ান এমবাপের জন্য মধুর–তিক্ত অভিজ্ঞতা। ফাইনালে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেও টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে শিরোপা হাতছাড়া হয় ফ্রান্সের। আরও অভিজ্ঞ হয়ে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে নামবেন ফরাসি তারকা। লক্ষ্য থাকবে পরিষ্কার; আরেকবার বিশ্বকাপ জেতা।
আর্লিং হালান্ড, নরওয়ে : ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন। নরওয়ের প্রতিশ্রুতিশীল ‘গোল্ডেন জেনারেশন’–এর নেতৃত্বে থাকবেন ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ছিলেন দুর্দান্ত। উয়েফা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ১৬ গোল করে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগাল : ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। ৪১ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে থাকলেও অসাধারণ ফিটনেস ধরে রেখে এখনও নিজেকে আলাদা উচ্চতায় রাখছেন পর্তুগিজ তারকা। পর্তুগালকে ইউরোপিয়ান সাফল্য এনে দেওয়ার পর এবার বিশ্বমঞ্চেও একই স্বপ্ন পূরণ করতে চাইবেন রোনালদো। ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার সুযোগ হয়তো এটিই তার শেষ বড় মঞ্চ।
হ্যারি কেইন, ইংল্যান্ড : বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে টানা দ্বিতীয় বুন্দেসলিগা শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছেন হ্যারি কেইন। ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মগুলোর একটিতে থাকা ইংল্যান্ড অধিনায়ক হতে পারেন থ্রি লায়ন্সদের আক্রমণের প্রধান অস্ত্র।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রাজিল : চার বছরে একজন ফুটবলারের অবস্থান কতটা বদলে যেতে পারে, তার বড় উদাহরণ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে তিনি তখন মাত্র জায়গা করে নিয়েছেন। এবার বিশ্বকাপে তিনি যাচ্ছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে। শিরোপা জয়ের ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার মিশনে ব্রাজিলের আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা থাকবেন ভিনিসিয়ুস। গতি, ড্রিবলিং ও টেকনিকের জন্য পরিচিত এই উইঙ্গার থাকবেন সেলেসাওদের তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগের কেন্দ্রে। ব্রাজিল দলে আছেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়রও, যিনি চমক হিসেবে স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন।
অঁতোয়ান সেমেনিয়ো, ঘানা : বছরের শুরুতে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর দ্রুতই নজর কেড়েছেন অঁতোয়ান সেমেনিয়ো। প্লেমেকিং সামর্থ্যের পাশাপাশি গোল করার ক্ষমতাও দেখিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। সিটির শিরোপা লড়াইয়ে তার ১০ গোল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আরদা গুলের, তুরস্ক : দুই দশকের বেশি সময় পর আবারও বিশ্বকাপে ফিরছে তুরস্ক। ‘ক্রিসেন্ট স্টারস’দের ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক, আর সেই প্রত্যাশার বড় অংশ জুড়ে থাকবেন তরুণ উইঙ্গার আরদা গুলের। ইউরোপের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে ইতোমধ্যে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন গুলের। এবার তার সামনে পরের ধাপ–বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে নিজেকে ঘোষণা করা।
মোহাম্মদ সালাহ, মিসর : আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম বড় আইকন মোহাম্মদ সালাহ। অসংখ্য ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছেন, ক্লাব ফুটবলে প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছেন। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে এখনো বড় কোনো শিরোপা জেতা হয়নি ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের। সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাইবেন সালাহ। মিসরের আশা–ভরসার বড় অংশ তাই থাকবে তার কাঁধেই।












