অ্যাম্বুলেন্সের লোকজনের সাথে এনসিপি নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৮ জুন, ২০২৬ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির লোকজনের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর আলী আশিক এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাদাত আহত হয়েছেন দাবি তাদের। পরে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স মালিক নিজেদের এসব ঘটনায় জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন। গতকাল বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেটে এ ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে এনসিপি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী পরিবহনের পুরো বিষয়টি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। সমিতির সদস্যদের বাইরে অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। কেউ প্রবেশের চেষ্টা করলে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়। সমিতির লোকজন রোগী, রোগীর স্বজন এবং অ্যাম্বুলেন্সচালকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এনসিপির নেতারা আরও বলেন, এ কারণে রোগীর স্বজনরা নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে বাধ্য হচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম নগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বহু অভিযোগ তাঁদের কাছে এসেছে। এসব অভিযোগ যাচাই করতে তাঁরা নিজেরাই ভুক্তভোগী সেজে সকালে নোয়াখালী যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। সেখানে ভাড়া চাওয়া হয় ১২ হাজার টাকা, যা নির্ধারিত ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ। কয়েক দিন আগে ফেনী যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৯ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল, যদিও নির্ধারিত ভাড়া সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সমিতির সদস্যরা তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্সের যে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ করা আছে, সেই ভাড়ার দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে রোগী ও তাঁদের আত্মীস্বজনদের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হয়। চমেক হাসপাতালের পরিচালক যিনি আছেন, উনিও নাকি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভাঙতে পারবেন না। উনি নাকি এই সিন্ডিকেটের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন। তাহলে এই সিন্ডিকেট ভাঙবে কারা। এখানকার যিনি এমপি আছেন, উনি এখানকার অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছেন না। ডিসিকে জানালে ডিসিও কিছু করতে পারছেন না। এরা কি আইনের ঊর্ধ্বে? তাহলে আমরা কি ধরে নিব, উনারাও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আছেন। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা এই বিষয়ে চসিক মেয়রের সঙ্গে কথা বলব, এ ছাড়া আরও যা যা করার, তাই করব। এরপরও যদি এই সিন্ডিকেট না ভাঙে, তাহলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এখানে ব্লকেডসহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। এখানে কোনো রোগী বা রোগীর আত্মীয়স্বজনদের জিম্মি করে, লাশ জিম্মি করে, রোগীদের পকেট কেটে কোনো সিন্ডিকেট করে টাকা আত্মসাৎ করা যাবে না।

অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয় না। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার একটি অংশ সমিতির বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়। প্রায় ১০ মাস আগে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধটেম্পো চালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ