নগরের নিউ মার্কেট মোড় থেকে ওমর চাঁদ রোড হয়ে সদরঘাট রোড পর্যন্ত এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত থেকে প্রায় ২০০টি ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। অভিযানে পাশের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. সোয়েব উদ্দিন খান।
জানা গেছে, ওমর চাঁদ রোডে বিভিন্ন সাইকেলের দোকান রয়েছে। দোকানদার ফুটপাত দখল করে সাইকেল সাজিয়ে রাখেন। গতকাল অভিযান চলাকালে মাইকিং করে সাইকেল সরিয়ে ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর ব্যবসায়ীরা দ্রুত সাইকেলগুলো সরিয়ে নেন। এ সময় ওমর চাঁদ রোড এলাকায় সাইকেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে নির্দেশনা প্রদান করেন চসিকের স্পেশাল মাজিস্ট্রেট।
এদিকে অভিযানে পেশোয়ার দালিম হোটেলের সামনে নালার ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত একটি লোহার অ্যাঙ্গেল অপসারণ করে জব্দ করা হয়। এছাড়া ভাসমান ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়।
চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমদ আজাদীকে জানান, অভিযানে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে স্থাপিত প্রায় ২০০টি অবৈধ টং দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং যান চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল। অভিযানের মাধ্যমে উভয় পাশের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোয়েব উদ্দিন খান বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশনায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার লক্ষ্যে আজকের এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা ও টং দোকানের কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং যানজটও বাড়ছিল। এসব সমস্যা নিরসনে আমরা ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি।
তিনি বলেন, মেয়র মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা হচ্ছে, নগরের কোনো ফুটপাত বা সড়ক অবৈধভাবে দখল করে রাখা যাবে না। জনগণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত স্থান জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিতে হবে। সে লক্ষ্যে শুধু আজকের অভিযান নয়, ভবিষ্যতেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। যারা উচ্ছেদের পর পুনরায় ফুটপাত ও সড়ক দখলের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও চলাচল উপযোগী রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। কোথাও ফুটপাত বা সড়ক অবৈধভাবে দখল করা হলে নাগরিকরা প্রতিবাদ জানাবেন এবং দ্রুত সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। জনসচেতনতা ও প্রশাসনিক তৎপরতার সমন্বয়েই একটি সুন্দর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।
অভিযান চলাকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফুটপাতে (ওমর চাঁদ রোড) সাইকেল রাখলে মামলা হয়ে যাবে। এ মামলায় তারা সাফার করবেন।
এদিকে উচ্ছেদ হওয়া হওয়া কয়েকজন হকার বলেন, হকার সমিতিতে টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা করেন। এছাড়া নোটিশ দেওয়া ছাড়া অভিযান পরিচালনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।











