সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নিয়মিত পোস্ট ‘সবুজের খোঁজে প্রিয় চুনতিতে’ একটি শিরোনাম। একটি অনুপ্রেরণা। দেশব্যাপী সবুজ গড়ার আন্দোলন। পরিবেশ উন্নয়ন ও সুরক্ষার সচেতনতা বৃদ্ধির একটা প্রচেষ্টা। সামপ্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রচারাভিযানগুলো প্লাস্টিকের ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং টেকসই বিকল্পের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর আলোকপাত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানব সৃষ্ট কিছু অহেতুক কর্মকাণ্ড পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
সত্তর দশকের কথা। আমার বাবা মরহুম বদরুল হুদা ছিদ্দিকীকে দেখতাম বাজারে যেতেন কাঠ বাঁশ ও বেতের তৈরি বড় ঝুড়ি নিয়ে। আমার বাবা ছিলেন চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লার স্বনামধন্য পুস্তক প্রকাশক ও লাইব্রেরি ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারক। উনার নিয়মিত সহযোগী থাকতেন মরহুম আবদুল আলীম বা মরহুম আবদুল খালেক দুই ভাই। তখনকার সময় পলিথিন, নেট ঝুড়ি বা প্লাস্টিক এর ঝুড়ি কিংবা পলিথিন থলে ছিলো না। ঐ সময়ে বেতের তৈরী একধরনের ঝুড়ি ছিল যা খুব শক্ত এবং এর একটা হাতল থাকতো। স্থানীয় ভাষায় এটাকে ‘ঢুলা’ বলা হতো। আমি মনে করি পরিবেশ রক্ষার জন্য বাংলাদেশ এ এধরনের বাঁশ বেতের তৈরি ঝুড়ি আবার প্রচলণ করা দরকার। বাবাকে দেখেছি চুনতিতে আমাদের পাহাড় ও ভিটা ভূমিতে নিজ হাতে নানান ফুল ও ফলের গাছের চারা রোপন করতেন এবং নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করতেন। মায়ের হাত ধরে আমাদের বাড়ির আশপাশে নানান ফুলের সমারোহ গড়ে উঠেছিল। তিনি গাছ চারা লাগানো আর প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সব সময় নানান পরামর্শ ও উপদেশ দিতেন। পরিবেশ রক্ষার জন্য আমাদের রয়েছে পর্যাপ্ত পারিবারিক ও প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা।
আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চুনতি হাকিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চুনতি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাহাড়ে আমরা অনেক গাছের চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যা করেছি সেই সময়ে। আমাদের ভাবতে হচ্ছে চলমান উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা সমন্বয় করা। পরিবেশ রক্ষায় সরকারের সাথে সাথে প্রতিটি পরিবার ও সকল শ্রেণির জনগণকে আরো ব্যাপক সচেতনতার এবং যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। সবার মনে রাখতে হবে পৃথিবী তর্ক করে না। প্রকৃতি কোনো আপোস করে না। কোন মিছিল মিটিং করে নাহ! কোন ছোট বড় সভা সমাবেশ করে না। পৃথিবী আমাদের কাজের জবাব দেয় ভিন্ন ভাবে। এটি সংকেত পাঠায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভয়াবহ দাবানল, তাপপ্রবাহ, হিমবাহ গলে যাওয়া।
আসুন আমরা পৃথিবী ও প্রকৃতি রক্ষায় যথাযথ কাজ করি। মানব সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং বন উজাড় রোধ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য সবাই মিলে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করি।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ সালের এই দিবসটি কেবল যেন একটি আনুষ্ঠানিকতা না হয়, এটি হতে হবে একটি বৈশ্বিক আন্দোলন যা প্রতিটি মানুষকে মনে করিয়ে দেবে যে, এই দেশ এই পৃথিবী আমাদের সকলের এবং এর সুরক্ষা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।












