মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প নিয়ে বড় উদ্যোগ ওয়াসার

উৎপাদন ৯ কোটি থেকে ৪০ কোটি লিটার করার পরিকল্পনা । ব্যয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা । হালদার পরিবর্তে কর্ণফুলী নদী থেকেই পানির সংস্থান করা হবে । আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে সম্মত দক্ষিণ কোরিয়া, পরিদর্শনে আসছে টিম

হাসান আকবর | বৃহস্পতিবার , ২১ মে, ২০২৬ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে খাবার পানির উৎপাদন ৩১ কোটি লিটার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি এবং আর্থিক সহযোগিতায় ওয়াসা প্রকল্পটি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। অপরদিকে হালদার পরিবর্তে ওয়াসা কর্ণফুলী নদী থেকেই পানির সংস্থান করতে চায় ওয়াসা। মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পের সক্ষমতা ৯ কোটি লিটার থেকে ৪০ কোটি লিটারে উন্নীত করতে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো পরিদর্শন করতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে একটি টিম চট্টগ্রামে আসছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এর ৯২ শতাংশই আসে হালদা ও কর্ণফুলী নদী থেকে। এর মধ্যে মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার, রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প১ থেকে ১৪ কোটি লিটার এবং কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প২ থেকে ১৪ কোটি লিটার মিলে এই দুইটি প্রকল্প থেকে মোট ২৮ কোটি লিটার পানি পাওয়া যায়।

মোহরা পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে ওয়াসার সরবরাহে আসে ৯ কোটি লিটার পানি। এই প্রকল্পগুলো হালদা এবং কর্ণফুলী নদীর পানি নিয়ে পরিশোধন করে নগরীতে প্রেরণ করে। এর বাইরে ওয়াসার ৪০টির মতো ডিপ টিউবওয়েল থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪ কোটি লিটার পানি উত্তোলন ও সরবরাহ দেয়া হয়। উপরোক্ত চারটি প্রকল্প এবং ডিপ টিউবওয়েল থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন এবং তা নগরীতে সরবরাহ দেয়া হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংস্থান কমে গেলে উৎপাদন ৪৩ কোটি লিটারে নেমে আসে। এর বাইরে ভান্ডালজুরি পানি শোধনাগার থেকে মূলত দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং শিল্পাঞ্চলে কিছু পানির যোগান দেয়া হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার আবাসিক গ্রাহক সংযোগ রয়েছে ৭৮ হাজার ৫৪২টি, বাণিজ্যিক সংযোগ ৭ হাজার ৭৬৭টি। পুরো নগরীর মানুষই মূলতঃ চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির উপর নির্ভরশীল।

চট্টগ্রাম মহানগরীর লোক সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। অসংখ্য বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে। উঁচু এলাকাগুলোতেও বাড়িঘর হচ্ছে। সবকিছু মিলে প্রতিদিনই ওয়াসার পানির চাহিদা বাড়ছে। বাড়তি চাহিদার যোগান দিতে গিয়ে ওয়াসা হিমশিম খাচ্ছে। শহরের বহু এলাকাতেই নিয়মিত পানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। কিছুটা উঁচু এলাকাগুলোতে পানির হাহাকার চলে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম ওয়াসা ৩১ কোটি লিটার পানির উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পের ৯ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের পুরানো অবকাঠামো পাল্টে নতুন করে ৪০ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে ওয়াসা। এক্ষেত্রে বিদ্যমান মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পের পানির উৎস হালদা। হালদা থেকে পানি না নিয়ে কর্ণফুলী থেকে পানি নিয়ে এই প্রকল্পের উৎপাদন বাড়ানো হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রকল্পটিতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে বলে উল্লেখ করে ওয়াসার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা গতকাল দৈনিক আজাদীকে জানান, দক্ষিণ কোরিয়া এখনো কম সুদে এবং সহজ শর্তে ঋণ দেয়। এক শতাংশেরও কম সুদ তাদের। সাত থেকে দশ বছর গ্রেস পিরিয়ড দেয়। তবে এক্ষেত্রে কনসালটেন্ট এবং নির্মাণ ঠিকাদার তাদের থেকে নিতে হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলাপ আলোচনা করছি। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি টিম অচিরেই বিষয়টি পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাছাইয়ের জন্য চট্টগ্রামে আসবে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। না হয় শহরের পানির যোগান দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। ৩১ কোটি লিটার পানির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে বেশ কয়েক বছর নিশ্চিন্তে থাকা যাবে। প্রকল্পটিতে কোন জমি হুকুমদখল করতে হবে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পের দ্বিতীয় পেজের জন্য আমাদের জমি রয়েছে। ওখানে অনায়াসে ৪০ কোটি লিটারের সক্ষমতা গড়ে তোলা যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিদ্যুৎ সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি, প্রকল্প ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
পরবর্তী নিবন্ধঅতিরিক্ত মূল্য আদায় : নগরের বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের অভিযান