রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ওমান প্রবাসী চার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার হয়েছে নিজেদের গাড়ির ভেতর থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, ওমানের মেলাদ্দা নামক এলাকায় গতকাল বুধবার ওমানের স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে গাড়ির এসির বিষাক্ত কোনো গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। রাতের দিকে তাদের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
নিহত ৪ ভাই হলেন– মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বন্দারাজার পাড়া এলাকার মরহুম আবদুল মজিদের সন্তান। ঘরে তাদের বৃদ্ধা মা ও বড় দুই ভাইয়ের স্ত্রী–সন্তানরা রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই পরিবারের ৫ ভাইয়ের মধ্যে ৪ ভাই–ই ওমান প্রবাসী ছিলেন। তাদের মধ্যে দুই ভাই অবিবাহিত ছিলেন এবং আগামীকাল শুক্রবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তারা কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আমির হোসেন সুমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাইয়ের একদিন পর দেশে ফেরার কথা ছিল। এখন চার ভাই–ই ফিরছেন লাশ হয়ে। তাদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিক তদন্তে ওমান পুলিশ ধারণা করছে, দীর্ঘক্ষণ গাড়িটি চালু অবস্থায় স্থির থাকার ফলে এর এসি থেকে কোনো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে।
নিহতদের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্য এক ভাইও সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ছোট দুই ভাই এক সাথে দেশে ফেরার আনন্দ নিয়ে শপিং করতে বের হলেও ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তাদের পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।












