রাউজানের পাহাড়তলী, পূর্বগুজরা, বাগোয়ান ও কদলপুর ইউনিয়নের চতুরমুখী সীমানায় থাকা ফাঁড়ির কুল প্রকাশ রাউলী ব্রিজটি চার বছর ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চার ইউনিয়নের সীমানায় থাকা কর্ণফুলীর শাখা হ্রদের খালের উপর রাউলী ব্রিজটি পাকিস্তান আমলে নির্মিত ছিল লোহার সিট ও এঙ্গেল দিয়ে। এই ব্রিজটি ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হলে স্থানীয়রা কোনো রকম সংষ্কার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে আসছিলেন। গত ২০২১ সালে বিধ্বস্ত ব্রিজটি পুনঃনির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে। ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৭ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পায় দিদার আলী ও মাজেদা (জেবি) এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
দরপত্রের মাধ্যমে দরপত্রের শর্তানুসারে ২০২৩ সালের মধ্যে ব্রিজটির কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ২০২৬ সালে এসেও ব্রিজটি অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়রা বলেছেন, ব্রিজটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দুই পাশে গাডার তৈরি করে ফেলে রেখেছে গত দুই বছর ধরে। এভাবে ব্রিজটি পড়ে থাকায় চার ইউনিয়নের মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিকে মূল ঠিকাদার কাজের কার্যাদেশ নিয়ে নির্মাণ কাজে হাত দিলে তৎকালীন সময় (পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে) স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ঠিকাদারের কাছে নানা আবদার করেন। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কাজ এগিয়ে নিতে পারছিলেন না। পরে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ম্যানেজ করে কাজ শুরু করলেও ব্রিজের গোড়ায় থাকা একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা নিয়ে বিরোধ থেকে আবারও কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সূত্র মতে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ও তৎকালীন এমপির হস্তক্ষেপে জায়গার বিষয়টি অনিষ্পন্ন রেখে ঠিকাদার আবার কাজে হাত দিয়ে সর্বশেষ ২৪ সালের প্রথম দিকে ব্রিজের উপরে দুই দিকে দুটি গাডার স্থাপন করে এবং পরে নানা অজুহাতে আবার কাজ ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এই অবস্থায় এখনো পড়ে আছে জনগুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমটি।
ব্রিজটি এভাবে দুই বছর যাবত পড়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, খালের মধ্যখানে গার্ডারটি স্থাপনের জন্য খালের ভিতর সাটারিং করার সাপোর্ট দিতে হয়। পরিকল্পনা অনুসারে মাটির নিচে ১৫–২০ ফুট পাইপ গেড়ে এই খুঁটির ওপর গার্ডার স্থাপন করতে হবে। এখন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ যেই জায়গা খুঁটি বসাতে হবে সেখানে মাটি খুবই নরম। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলে দুঘর্টনার আশংকা থাকে। ঠিকাদারের এমন অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। এরপর সরকার পরিবর্তন হয়েছে। ইতিমধ্যে এই নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আমরা একাধিক চিঠি দিয়েছি। কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী টিম এসে সাইট পরিদর্শনও করে গেছে। আগামীতে আরো একটি বিশেষজ্ঞ দল আসার কথা রয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকৌশলী।












