চার মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে কোনো জলদস্যুতা হয়নি

সিঙ্গাপুরভিত্তিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা রিক্যাপের হিসাব

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১২ মে, ২০২৬ at ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতি ও ছিঁচকে চুরি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে দস্যুতার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময়োপযোগী ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে এই এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। জলদস্যুতা কমে যাওয়ার বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ও সুনাম বৃদ্ধি করেছে। বহির্নোঙরে অবস্থানরত দেশিবিদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

জাহাজে জলদস্যুতা পর্যবেক্ষণকারী সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংস্থা রিজিওনাল কোঅপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট অন কমবেটিং পাইরেসির (রিক্যাপ) হিসাব বলছে, গত চার মাসে বন্দরের বহির্নোঙরে কোনো জলদস্যুতা হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের হিসেবে, গেল বছর বহির্নোঙরে আসা বা অবস্থান করা দেশিবিদেশি জাহাজে দস্যুতার চারটি ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম বলেন, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী ও সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে বহির্নোঙরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এ সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে বহির্নোঙর এলাকা আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।

তিনি বলেন, আর্ন্তজাতিক শিপিং লাইনগুলোর মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে বন্দরের ভাবমূর্তি ও সুনাম বহু গুণে বেড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতি বছরে গড়ে চার হাজারের বেশি দেশিবিদেশি জাহাজ পণ্য নিয়ে আসে এবং বহির্নোঙরে অবস্থান করে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজে বাধ্যতামূলক পোর্ট ওয়াচম্যান নিয়োগ, বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপত্তা বিভাগ নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সমন্বিত নিরাপত্তা টহল, আধুনিক ভিটিআইএমএসের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি, নৌপুলিশ ও গোয়েন্দা সমন্বয় এবং স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কারণে দস্যুতা কমেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে বহির্নোঙর এলাকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোর মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিরাপদ ও আধুনিক বন্দর বিনির্মাণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আগামীতেও এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর বলেও বন্দর সচিব জানিয়েছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলবণচাষীদের উৎপাদন খরচ পর্যালোচনা হচ্ছে, যাতে সঠিক দাম পান : প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধব্রেন কাজ করছে না গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমির