জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। এই কারণেই পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডের মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। খবর বিডিনিউজের।
পুলিশ সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ কল্যাণ প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কথা বলছিলেন। এদিন সকাল ৯টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ বার্ষিক প্যারেডের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করেন। এরপর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে কল্যাণ প্যারেড অনুষ্ঠানে আসেন।
পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয় : পুলিশ বাহিনী নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে। বাহিনীর দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা অবশ্যই আপনাদের দায়িত্ব।
ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে আপনারা সারা দেশে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনাদেরকে গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে আমি অভিনন্দন জানাই। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, অবশ্যই পুলিশের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব। তবে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের জনগণ ভিন্ন চিত্রও দেখেছে। বাংলাদেশে যেন আর কখনোই ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে আসুন এই পুলিশ সপ্তাহে সেটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক হবে আইনগত ও মানবিক : প্রধানমন্ত্রী বলেন পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত এবং মানবিক। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা এবং নির্ভরতার। যে–কোনো বিপদে–আপদে জনগণ যেন থানা পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে, আপনাদের কাছে আমার এতটুকুই চাওয়া।
পুলিশের সাফল্য মানেই সরকারের সাফল্য : প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের অ্যাম্বাসেডর। আপনাদের দক্ষ এবং তাৎক্ষণিক কৌশলী সিদ্ধান্ত যে–কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আপনারা কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন; আপনারাই হচ্ছেন রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার। সুতরাং পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, একজন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে এটি সরকারেরও সাফল্য।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক সরবরাহকারী এবং মাদকের উৎসমূল টার্গেট করে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কার্যক্রম চালানো জরুরি। মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা এসবের সাথে কম্প্রোমাইজ করতে চাই না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসঙ্গ : প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই জানি বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। গ্লোবাল ভিলেজের এই বিশ্ব ব্যবস্থা একদিকে মানুষের মনোজগতে যেমন পরিবর্তন এনেছে অপরদিকে পাল্টেছে অপরাধের ধরণ। সুতরাং বাংলাদেশ পুলিশকে একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনীতে রূপান্তর করতে অপরাধ বিশ্লেষণ সক্ষমতা জোরদার, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতির বিস্তৃত প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ বিকাশমান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ লক্ষেই সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ও ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাসহ এসব বিষয়গুলোকে আরো কার্যকর করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
আইনের শাসন সুনিশ্চিত করতে চাই : দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে সরকার আইনের শাসন সুনিশ্চিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুম অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশের দাবি–দাওয়া প্রসঙ্গে : দ্রুত পরবর্তনশীল এই বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পুলিশে বাহিনীকেও আরো দক্ষ এবং আধুনিক করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। এই লক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের আবাসন সংকট সমাধান, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, রেশন এবং ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ–সুবিধা বাড়ানোর বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনার ভেতরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।













