গণতন্ত্র চিন্তা ও অস্থির সময়

এমরান হোসাইন | সোমবার , ২০ জুন, ২০২২ at ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে ডলারের মূল্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানী তেলের (গ্যাসলিন) চড়া দামের প্রভাবে সহজে বুঝা যায়, উন্নত- উন্নয়নশীল, অনুন্নত-দরিদ্র সবদেশের ত্রাহি অবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রে এ অস্বাভাবিক জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধি সেদেশের সাধারণ মানুষ আগে কখনও দেখেনি। ফলে এ নিয়ে বাইডেন প্রশাসন কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন; আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। অপরদিকে বাংলাদেশে ডলার মান নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক হিমশিম খাচ্ছে। এ দুদেশের দু’ত্রাহি অবস্থা বিশ্লেষণ করার যোগ্যতা আমার নেই।

আমি এ মাপের বিশ্লেষক নই; তবে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের খেটে খাওয়া মানুষের সাথে উঠবস করতে গিয়ে -সাদা চোখে স্পষ্ট দেখতে পাই- আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ অখাটুনি খেটে যাচ্ছেন-অপর একটি শ্রেণী ধরাছোয়ার বাইরে মহীরূহে পরিণত হয়েছে। উন্নত বিশ্বে ধনী-গরীবের ব্যবধান বহুগুণ বেড়েছে। ফলে সমাজে অস্থিরতা-বেড়ে স্কুল-শপিংমলে বেপরোয়া গোলাগুলির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি সিএনএন সহ পশ্চিমা নানা সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম করেছে- বিশ্বব্যাপী ধেয়ে আসছে ‘অর্থনৈতিক হারিকেন এবং পরবর্তীতে হতে পারে রাজনৈতিক অস্থিরতা’।

করোনা মহামারী পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতিবিদদের মতভেদ রয়েছে। ‘উন্নত বিশ্বের জন্য, একটি গুরুতর মন্দার সম্ভাবনা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। দরিদ্র দেশগুলিতে, ক্রমবর্ধমান ভয় -এবং ইতিমধ্যে বর্তমান বিপদ- যাকে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ‘ক্ষুধার বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেন। করোনা মহামারী বিশ্ব অর্থনীতিতে মোচড় দিয়ে গেছে। বৈশ্বিক বলয়ে অর্থনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটেছে। এদিকে রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলায় সংঘটিত যুদ্ধের ফলে বিশ্বঅর্থনীতি আরও খারাপের দিকে ধাবিত হয়েছে। উন্নত বিশ্বেও এর প্রভাব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পৃথিবীর সব দেশে পণ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। এমনকি আমেরিকায় সবকিছুর দাম গত দুবছরের তুলনায় দ্বিগুণ। জ্বালানী তেলের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৫ ডলার-৭ ডলার। এ হযবরল অবস্থার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট দলের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজ (বারাক ওবামা ফাউন্ডেশন) উদ্যোগে কোপেনহ্যাগেন সামিট করে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মদের নিয়ে লিডারশীপ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছেন।

এশিয়া, ইউরোপ-আমেরিকা ও ল্যাটিন আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এক ঝাঁক তরুণ নেতাদের উদ্দেশ্যে বারাক ওবামা বলেন- বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে। আমরা যদি গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটাতে চাই, তবে এর জন্য আমাদের লড়াই করতে হবে, আমাদের এটিকে লালন করতে হবে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বারবার এর মূল্য প্রদর্শন করতে হবে। আমরা এখন এমন একটি মিডিয়া পরিবেশে বাস করি যা মিথ্যাকে সত্যের মতো উচ্চারণ করে, যা মানুষকে একত্রিত করার চেয়ে বেশি বিভক্ত করে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আশা প্রকাশ করেন-বিশ্বব্যাপী আগামী প্রজন্মই পরিবর্তন ঘটাবে, যা গণতন্ত্রের প্রয়োজনে নতুন বিশ্ব গড়ে তুলবে।

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক

পূর্ববর্তী নিবন্ধজিপিও তে (ডাকঘর সঞ্চয়) সাধারণ হিসাব খোলা প্রসঙ্গে
পরবর্তী নিবন্ধসুফিয়া কামাল : সাঁঝের মায়ায় বসে যিনি দেশের মানুষের জন্য মায়ার জাল বুনেছিলেন