ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে মোট ৩০ শতাংশ ভ্যাট কমানোর প্রভাবে খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম নিম্নমুখী। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণে পাম তেলের দাম কমেছে ৮০০ টাকা এবং সয়াবিনে দাম কমেছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। পাইকারীতে দাম কমলেও খুচরা বাজারে এখনো কোনো প্রভাব পড়ছে না। ফলে পাইকারীতে দাম কমার সরাসরি কোনো সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সাধারণত বিভিন্ন কোম্পানি বোতলজাত করে সয়াবিন বিক্রি করে। এছাড়া গ্রামেগঞ্জের দিকে খোলা সয়াবিনের কিছুটা চাহিদা থাকে। বাজারে যেসব সয়াবিনের বোতল আছে সেগুলো বিভিন্ন কোম্পানি আগে সাপ্লাই দিয়েছে। এগুলোর বিক্রি শেষ হলে তবে নতুন দামে বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে পাম তেলের চাহিদা থাকে বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে। খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম তেলে ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এছাড়া সয়াবিনের মণে ৫০০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৬০০ টাকায়।
জানতে চাইলে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ভ্যাট কমানোর প্রভাবের চেয়েও বর্তমানে তেলের বাজারে ক্রেতার সংকট রয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের নজরদারির কারণেও অনেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে ভ্যাট কমানোর প্রভাব পড়তে পড়তে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে গতকাল খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৬৮ টাকা, দুই লিটার ৩৩৬ টাকা, তিন লিটার ৪৯৫ টাকা এবং পাঁচ লিটার বিক্রি হচ্ছে ৭৯৫ টাকায়। কাজীর দেউরি খুচরা বাজারের বিক্রেতা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাজারে এখনো সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি হচ্ছে। আমাদের দোকানে কোম্পানিরা যেসব সয়াবিন সরবরাহ দিয়েছে সেগুলো দুই সপ্তাহ আগের। কোম্পানিরা নতুন দামে তেল সরবরাহ দিলে আমরা সেই দামে বিক্রি করবো।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন দৈনিক আজাদীকে বলেন, পাইকারীতে তেলের বাজার কমেছে ঠিকই খুচরা পর্যায়ে এর কোনো প্রভাব নেই। অর্থাৎ ভোক্তাদের এখনো সেই আগের দরেই তেল কিনতে হচ্ছে। তাহলে তো লাভ কিছুই হলো না। এখন যেহেতু ভ্যাট মওকুফ করেছে তাই সরকারের দাম বোতলজাত সয়াবিনের নতুন করে দাম নির্ধারণ করে দেয়া দরকার। তাহলে ভোক্তারা উপকৃত হবেন। একই সাথে সরকারকে বাজার মনিটরিংটা অব্যাহত রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোজ্যতেলের দামের লাগাম টানতে সরকার আমদানির ওপর ১০ শতাংশ মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে গত ১০ মার্চ সচিবালয়ের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকার কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ের মোট ৩৫ শতাংশ ভ্যাটের মধ্যে ৩০ শতাংশই মওকুফ করে সরকার।













