মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ–আবুরহাট সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার প্রায় ৫ বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি। একাধিকবার ঠিকাদার পরিবর্তন ও কাজের মেয়াদ বাড়ানোর পরও সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকেরা।
জানা গেছে, প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। এরপর কেটে গেছে ৫ বছর। বারবার সময় বাড়িয়ে ১২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ বর্ধিত সময় শেষ হওয়ার পর পুনরায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলজিইডির মীরসরাই উপজেলা প্রকৌশলী সাফায়েত ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেন, সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
এর আগেও একাধিকবার ঠিকাদার পরিবর্তন ও সময় বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে বিটুমিনসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে চলে যায় বলে এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে। পরে ওই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীকাল নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও কাজের গতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত, কাদা ও পানি জমে থাকায় যান চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পশ্চিম গোপিনাথপুর অংশটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই অংশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় বর্ষার কারণে কাজ আরও বিলম্বিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মেহেদী হাসান বলেন, জোরারগঞ্জ–আবুরহাট সড়কটি জনবহুল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। মহাসড়ক থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। বারবার ঠিকাদার বদল ও সময় বাড়ানো হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
সমাজকর্মী মাসুকুল আলম সোহান বলেন, জোরারগঞ্জ, ইছাখালী, কাটাছড়া ও আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। এমপি নুরুল আমিন জনদুর্ভোগ চিন্তা করে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের দাবি, আর সময় বাড়ানোর আশ্বাস নয়, এবার কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করে সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে বর্তমান ঠিকাদার কেফায়েত উল্লাহ দুলাল বলেন, মালামালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমার ৫০ লাখ টাকার বেশি লোকসান হতে পারে। তবুও জনস্বার্থে আমি এই কাজটি যথাশীঘ্রই সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো। উপজেলা প্রকৌশলী সাফায়েত চৌধুরী বলেন, তিনি মীরসরাইয়ে যোগদানের আগেও সড়কটি টেন্ডার হয়েছিল, পরে সময় বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সমাপ্ত না করায় কার্যাদেশ বাতিল হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের দুর্ভোগ চিন্তা করে আমি রি–টেন্ডার করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করেছি। তারাও কাজটি উদ্বোধন করার পর ফেলে রেখেছে। সর্বশেষ ঠিকাদার কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছে। কাজ না করলে আমরা চুক্তি বাতিলের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।











