২১ মাস পর ধরা পড়ল চোরের দল

আইনজীবীর বাসায় চুরি

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৮ জুন, ২০২১ at ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

কোতোয়ালীতে জাফরুল ইসলাম নামে এক আইনজীবীর বাসায় চুরির ঘটনার ২১ মাস পর চোরাই দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত রোববার চট্টগ্রাম ও ভোলার বিভিন্ন স্থানে টানা অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সিএমপির (গোয়েন্দা-দক্ষিণ) জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ মো. আবদুর রউফ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. শাহজাহান (৩৮), মো. মাসুদ (৩৫), সুমন কর্মকার (৩৮), শওকত হাওলাদার (২২) এবং দেলোয়ার হোসেন (৫৫)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শাহজাহান ও দেলোয়ারের বাড়ি চট্টগ্রামে এবং মাসুদ, সুমন ও শওকতের বাড়ি ভোলা জেলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালের ১২ আগস্ট কোতোয়ালীর আছাদগঞ্জ এলাকায় আইনজীবী জাফরুল আলমের বাসায় চুরি হয়। বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে চোরের দল দরজা ভেঙে ঢুকে ১৬ ভরি ৮ আনা সোনার অলংকার, নগদ ৪ হাজার টাকা ও ১৫ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড চুরি করে নিয়ে যায়। এরপর জাফরুল বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় কোতোয়ালী থানা পুলিশ তদন্ত শেষে কাউকে শনাক্ত করতে না পারায় ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর মামলার বাদী আইনজীবী জাফরুল আদালতে ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দেয়। আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেন। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে নেমে কালামিয়া বাজার থেকে চোরাই চক্রের মো. শাহাজাহানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভোলা থেকে মো. মাসুদ, সুমন কর্মকার ও শওকত হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। এসময় মাসুদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ১৬ ভরি স্বর্ণের মধ্যে ৩টি কানের দুল এবং ১টি আংটি উদ্ধার করা হয়। পরে পৃথক আরেকটি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় ওই চক্রের মো. দেলোয়ার হোসেন নামে আরেক সদস্যকে। এদের মধ্যে শাহাজাহান মহানগর হাকিম হোসেন মোহাম্মদ রেজার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
সিএমপির (গোয়েন্দা-দক্ষিণ) জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, আইনজীবী জাফরুলের বাসার কাছে দোকানে ট্রাকে ও ভ্যানে মালামাল লোড-আনলোডের কাজ করতেন শাহজাহান ও মাসুদ। চুরির ঘটনার পর তারা এলাকা থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। মামলার বাদী তাদের উধাও হওযার বিষয়টি নিয়ে আমাদের বলেন। ওই সূত্রকে কাজে লাগিয়ে আমরা ওই দুইজনের ছবি সংগ্রহ করি। এরপর কালামিয়া বাজার থেকে শাহজাহানকে গেপ্তার করি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোলা থেকে মাসুদ, সুমন ও শওকতকে গ্রেপ্তর করা হয়। এরপর চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজার থেকে দেলোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূলত মাসুদ এবং শাহজাহান চুরি সংঘটিত করেছিল। বাকি তিন জন চোরাই সোনাগুলো কিনেছিল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআলী আহমদ সওদাগর
পরবর্তী নিবন্ধকর্ণফুলীতে ৩টি মাটির ঘর গুড়িয়ে দিল বন্যহাতি