হামলার ঘটনায় এখনো গ্রেপ্তার নেই জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে : পুলিশ

ডিডিএন কার্যালয় ও তাদের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৫ জুলাই, ২০২৬ at ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে হামলাকারীদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে দশ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপ সোমবার দুপুরে এই হামলা চালায়।এদিকে হামলার পর ডিডিএন কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে তাদের ইন্টারনেট সেবার কার্যক্রমও। এতে সামগ্রিকভাবে এলাকার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সোমবার দুপুরে ৩০৩৫ জনের মুখোশধারী সশস্ত্র দল ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ ও মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানের দাবি, হামলায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। পুরো ঘটনাটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। পুলিশকে সব ফুটেজ সরবরাহ করা হয়েছে।

ডিডিএনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলার দুইদিন আগে বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরদিন দেশীয় নম্বর থেকেও একই দাবিতে যোগাযোগ করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাতে ‘অপেক্ষা করো, দেখবে’ এমন হুমকি বার্তা পাঠানো হয়। এরপরই সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীরা ডিডিএনের মালিকপক্ষকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেয়। তাদের ছেলেপেলেরা ব্যবসা করবে বলে শাসায়।

প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন পুলিশের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ফোনে হুমকিদাতা নিজেকে চট্টগ্রামের পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী বলে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, ভবিষ্যতে তাদের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।

চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুনকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে থানার একজন কর্মকর্তা আজাদীকে বলেন, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানায়, আমরা সবকিছু গুছিয়ে আনছি। যেকোনো সময় সন্ত্রাসীরা আমাদের জালে ধরা পড়বে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ঘিরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, এসব ঘটনার পেছনে সংঘবদ্ধ একটি সন্ত্রাসীচক্র জড়িত রয়েছে। ডিডিএনের ওপর হামলার ঘটনাটিকেও একই ধরনের সংঘবদ্ধ চক্রটির কাজ হিসেবে বিবেচনায় রেখে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআলীকদমে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তিন মেম্বার বরখাস্ত
পরবর্তী নিবন্ধজড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারে আল্টিমেটাম