চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর সবার জন্য সুবিধাজনক ও কেন্দ্রীয় স্থানে স্থাপনের দাবিতে এবার আন্দোলনে নেমেছে স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা! তাও আবার ক্লাস টাইমে ক্লাস–পরীক্ষা বাদ দিয়েই। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বা আঞ্চলিক স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের শোকজ করে জবাবদিহি চেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উত্তর ফটিকছড়ির নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসময় নারায়ণহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজ ও হেঁয়াকো বনানী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। আন্দোলনের প্রতি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–কর্মচারীরাও সংহতি জানান। বিক্ষোভকারীরা উপজেলা সদর দপ্তরের নির্ধারিত স্থান পুনর্বিবেচনা করে সব ইউনিয়নের মানুষের জন্য সমানভাবে যাতায়াতযোগ্য একটি কেন্দ্রীয় স্থানে সদর স্থাপনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে এ ধরনের আন্দোলন সমুচিত নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, পরীক্ষা ও ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষার্থীরা সংহতি জানিয়ে কিছু সময় আন্দোলন ও স্লোগান দিয়েছে। তবে পরীক্ষা বর্জনের বিষয়টি সঠিক নয়।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, স্কুল চলাকালে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা। এ সময় এ ধরনের কর্মসূচি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুইজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। যেহেতু উপজেলার বিষয় তাই তাদের অধিকার আর আবেগে এমনটা করতে পারে। যদি আমরা বাধা দিতাম তাহলে রাজনৈতিকভাবে আমাদের হয়রানি করা হতো। শিক্ষা অফিসার আমাদের কাছে এ ব্যাপারে মৌখিক ব্যাখা চেয়েছে, আমরা বিষয়গুলো তাদের বলেছি।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের নবগঠিত উপজেলা ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর সবার জন্য সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণহাট, দাঁতমারা, বাগানবাজার ও সুয়াবিল এলাকায় মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ এবং একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সম্প্রতি নতুন এই উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়োগের পর এই তৎপরতা আরও গতি পায়। তবে আন্দোলনের সাম্প্রতিক রূপ নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস এবং পরীক্ষা বর্জন করে এই দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।












